টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং পাকিস্তানের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার অবস্থান—সব মিলিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। সেই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই লাহোরে উড়ে যান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। পিসিবি ও আইসিসির সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত সংকট কাটানোর পথ খুঁজে বের করেন তিনি।
আমিনুল বলেন, আইসিসি যখন বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার কথা ভাবছিল, তখন পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষার পক্ষে অবস্থান নেয়। পাকিস্তান এমনও জানিয়েছিল, বাংলাদেশ না খেললে তারাও খেলবে না। তবে তিনি মনে করেন, এতে আইসিসি ও বিশ্ব ক্রিকেট বড় ক্ষতির মুখে পড়ত।
লাহোরে পৌঁছে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান পুরো বিষয়টিতে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছে। এমনকি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশের অবস্থানকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি নিশ্চিত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই ম্যাচ না হলে আইসিসির আর্থিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতি হতো। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সূচি ও আর্থিক স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। আইসিসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক করার প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নে আমিনুল বলেন, সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে। আগামী বছর বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপ আয়োজনসহ ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলো সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্বকাপে না খেলতে পারায় ব্যক্তিগতভাবে কষ্টের কথা স্বীকার করে বিসিবি সভাপতি বলেন, এটি ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি এখানে বড় ছিল। সম্ভাব্য আর্থিক ও ক্রীড়া ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা গেছে বলেই তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, পাকিস্তান এই ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
















