যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি দণ্ডিত যৌন অপরাধী Jeffrey Epstein–সংক্রান্ত প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে উঠে এসেছে তাঁর বিস্তৃত সামাজিক ও আর্থিক নেটওয়ার্কের চিত্র, যেখানে রাজনীতি, ব্যবসা, রাজপরিবার ও একাডেমিয়ার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।
কীভাবে নথিতে প্রবেশ করবেন
স্বচ্ছতা আইন অনুযায়ী বিচার বিভাগকে এপস্টিন ও তাঁর সহযোগী Ghislaine Maxwell–সংক্রান্ত অশ্রেণিবদ্ধ নথি প্রকাশ করতে হয়। মোট ছয় মিলিয়ন পৃষ্ঠার তথ্যের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা প্রকাশিত হয়েছে। এতে রয়েছে ইমেইল, বার্তা, তদন্ত প্রতিবেদন, ব্যাংক নথি, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড, ফ্লাইট লগ, জিজ্ঞাসাবাদ সংক্ষিপ্তসারসহ বিভিন্ন উপাদান। নথিগুলো ১২টি ডেটাসেটে সাজানো।
ডেটাসেটগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ
১–৮ নম্বর ডেটাসেটে ২০০৫–২০০৮ সময়কালের তদন্ত প্রতিবেদন ও জিজ্ঞাসাবাদ নথি রয়েছে।
৯ নম্বর ডেটাসেটে উচ্চপ্রোফাইল ব্যক্তিদের সঙ্গে ইমেইল যোগাযোগ ও ২০০৮ সালের অ-অভিযোগ চুক্তি সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।
১০ নম্বর ডেটাসেটে ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও, যার বড় অংশ গোপনীয়তা রক্ষায় আংশিক আড়াল করা।
১১ নম্বর ডেটাসেটে আর্থিক খতিয়ান, দ্বীপে যাতায়াতের তালিকা ও সম্পত্তি জব্দের নথি।
১২ নম্বর ডেটাসেটে অতিরিক্ত প্রায় ১৫০টি নথি রয়েছে, যেগুলোর আইনি পর্যালোচনা চলছে।
এপস্টিন কে ছিলেন
১৯৫৩ সালে নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এপস্টিন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ না করেই শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে কাজ করে নিজস্ব আর্থিক পরামর্শক সংস্থা গড়ে তোলেন। বিপুল সম্পদ ও প্রভাবশালী পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। ১৯৯০-এর দশকে ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দুজন মিলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারচক্র পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
অপরাধ মামলার টাইমলাইন
২০০৫ সালে প্রথম তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালে সীমিত অভিযোগে দোষ স্বীকার করে স্বল্পমেয়াদি সাজা ভোগ করেন। ২০১৯ সালে ফেডারেল যৌন পাচার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়, যা আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়। ম্যাক্সওয়েল পরে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড পান।
দ্বীপ ও সম্পত্তি
এপস্টিন ১৯৯৮ সালে মার্কিন ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপ কিনেছিলেন। পরে পাশের গ্রেট সেন্ট জেমসও কেনেন। এছাড়া নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, নিউ মেক্সিকো ও প্যারিসে তাঁর সম্পত্তি ছিল।
ভেতরের বৃত্ত
বিচার বিভাগের প্রকাশিত চিত্রে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একটি মানচিত্র রয়েছে, যেখানে বহু নাম আড়াল করা হয়েছে। ম্যাক্সওয়েল ছাড়াও অর্থ ও আইনি উপদেষ্টারা এই বৃত্তে ছিলেন।
নথিতে যাদের নাম
নথিতে উল্লেখ থাকলেই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। তবু বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম এসেছে, যেমন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফট সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকসহ আরও অনেকে। অনেকেই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই বিপুল নথিপত্র বিশ্লেষণ এখনও চলমান। তদন্ত ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে প্রতিদিন নতুন তথ্য সামনে আসছে, যা বিশ্ব রাজনীতি ও ক্ষমতার অন্দরমহলের জটিল সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
















