বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ইতিহাসের বিস্ময়কর প্রাণী - পর্ব ২
স্মাইলোডন: প্রাগৈতিহাসিক বিশ্বের এক ত্রাস ও বিলুপ্তির ইতিহাস
৪ কোটি ২০ লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীব্যাপী দাপিয়ে বেড়ানো স্যাবর টুথড টাইগার বা স্মাইলোডন ছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগের অন্যতম শক্তিশালী শিকারি। এদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মুখের সামনের দিকে ১১ ইঞ্চি লম্বা বাঁকা তলোয়ারের মতো ছেদন দন্ত, যা দিয়ে এরা নিমিষেই বিশালকায় প্রাণীদের শিকার করত।
আমরা সাধারণত সিনেমা বা কার্টুনে যাদের ‘স্যাবর টুথড টাইগার’ হিসেবে দেখি, তারা মূলত স্মাইলোডন গণভুক্ত। এদের অনেকে বর্তমানের বাঘ বা সিংহের পূর্বপুরুষ মনে করলেও, সব স্যাবর টুথড বাঘ আধুনিক মার্জার বা বিড়ালজাতীয় প্রাণীদের সরাসরি পূর্বপুরুষ নয়।
স্মাইলোডনদের শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য:
- আকার ও শক্তি: এরা আকারে বর্তমানের বাঘ বা সিংহের সমান হলেও এদের শরীরের গড়ন ছিল অনেক বেশি পেশীবহুল। বিশেষ করে এদের সামনের দুই পা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, যা শিকারকে আঁকড়ে ধরতে সাহায্য করত।
- বিখ্যাত দাঁত: এদের ১১ ইঞ্চি লম্বা ছেদন দন্তগুলো দেখতে ভয়ংকর হলেও গবেষকদের মতে, এদের চোয়াল আধুনিক বাঘের মতো ততটা শক্তিশালী ছিল না। তারা মূলত দাঁত ব্যবহার করত শিকারের ঘাড়ের নরম অংশে আঘাত করে দ্রুত রক্তক্ষরণ ঘটাতে।
- শিকার: স্মাইলোডনরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করত এবং বর্তমানের সিংহের মতো স্বভাবের ছিল। তারা মূলত মাস্টেডনের (আদিম হাতি) মতো বিশাল তৃণভোজী প্রাণীদের শিকার করত।

বিলুপ্তির কারণ: স্মাইলোডনরা মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে বিচরণ করত। আফ্রিকা ও এশিয়ার স্যাবর টুথড বাঘেরা অনেক আগেই হারিয়ে গেলেও, স্মাইলোডনরা টিকে ছিল প্রায় ১০ হাজার বছর আগে পর্যন্ত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তাদের প্রধান খাদ্য মাস্টেডনদের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্যাভাব সৃষ্টি হওয়ায় এই ভয়ংকর শিকারিরা পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
















