থাইল্যান্ডে আকস্মিক সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভূমজাইথাই পার্টি এগিয়ে রয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে দলটির স্পষ্ট লিড থাকায় নতুন জোট সরকার গঠনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
দেশটির নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আংশিক ফলাফল অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৯০ শতাংশের ফল প্রকাশের পর ৫০০ আসনের নিম্নকক্ষ সংসদের মধ্যে ভূমজাইথাই পার্টি ১৯৪টি আসনে এগিয়ে আছে।
তবে এই ফলাফলে দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। প্রগতিশীল পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে ১১৫টি আসনে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থনপুষ্ট পিউ থাই পার্টি ৭৭টি আসনে এগিয়ে আছে। থাকসিন গত বছর কারাবন্দি হন।
ফল প্রকাশের পর এক সংবাদ সম্মেলনে আনুতিন বলেন, আজকের এই জয় শুধু ভূমজাইথাই পার্টির নয়, বরং সব থাই জনগণের জয়, তারা যাকে ভোট দিক না কেন। তিনি বলেন, জনগণের সেবা দিতে তার দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
পিপলস পার্টির নেতা নাত্থাফং রুয়েংপানিয়াউত ফলাফলের ইঙ্গিত পেয়ে পরাজয় মেনে নেওয়ার সুরে বলেন, তারা প্রথম হতে পারেনি। তিনি জানান, তার দল প্রথম হওয়া দলের সরকার গঠনের অধিকারকে সম্মান করে।
নাত্থাফং আরও বলেন, পিপলস পার্টি ভূমজাইথাই নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেবে না এবং বিকল্প কোনো জোট সরকারও গঠন করবে না। ভূমজাইথাই সরকার গঠন করতে পারলে তাদের দল বিরোধী দলে বসবে।
ভূমজাইথাই পার্টিকে রাজতন্ত্রপন্থী ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের পছন্দের দল হিসেবে দেখা হয়। নির্বাচনী প্রচারে দলটি অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়। প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী আবেগও প্রচারে কাজে লাগানো হয়।
গত সেপ্টেম্বর মাসে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হলে আনুতিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। পরে অনাস্থা ভোটের আশঙ্কায় তিনি সংসদ ভেঙে দিয়ে ডিসেম্বর মাসে এই আকস্মিক নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
অনেকের প্রত্যাশা ছিল পিপলস পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পাবে। দলটি সামরিক বাহিনী ও আদালতের প্রভাব কমানো এবং অর্থনৈতিক একচেটিয়াবাদ ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পিউ থাই পার্টি প্রচারে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও নগদ সহায়তার মতো জনতাবাদী প্রতিশ্রুতি দেয়।
ব্যাংকক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক ক্লান্তির অনুভূতি থাকলেও ভোটের দিন অনেক মানুষ পরিবর্তনের আশায় ভোট দিতে এসেছেন।
এ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটারদের কাছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়—২০১৭ সালের সামরিক সমর্থিত সংবিধানের পরিবর্তে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হবে কি না। সমালোচকদের মতে, ওই সংবিধান অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছে।
প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, প্রায় দুই-এক ব্যবধানে ভোটাররা সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। ১৯৩২ সালে রাজতন্ত্রের অবসানের পর থেকে থাইল্যান্ডে মোট ২০টি সংবিধান প্রণীত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সামরিক অভ্যুত্থানের পর এসেছে।
নতুন সংবিধান প্রণয়নের পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সরকার ও সংসদ সদস্যরা সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। তবে সম্পূর্ণ নতুন সংবিধান গ্রহণের আগে আরও দুটি গণভোটের প্রয়োজন হবে।
















