মার্কিন ধনকুবের ও যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাংয়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির আর্থিক অপরাধ বিষয়ক কৌঁসুলিরা।
ফরাসি সমাজতান্ত্রিক সরকারের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা ল্যাংয়ের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অর্থ পাচারের সন্দেহে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টিন সংক্রান্ত নথিতে ল্যাং পরিবারে সঙ্গে এপস্টিনের যোগাযোগের তথ্য সামনে আসার পরই বিষয়টি তদন্তে গড়ায়।
বয়স ছিয়াশি বছর ল্যাং সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এএফপিকে বলেছেন, তাঁর সততা ও সম্মান নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই তদন্ত সেগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেবে।
তদন্ত শুরুর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ল্যাং আরব ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউটের প্রধান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেন। ফ্রান্স ও আরব বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে তিনি দীর্ঘদিন ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারোর কাছে পাঠানো চিঠিতে ল্যাং জানান, পরিচালনা পর্ষদের পরবর্তী বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন। ব্যারো তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন এবং নতুন প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।
এই মামলায় ল্যাংয়ের কন্যা ক্যারোলিন ল্যাংকেও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি ফ্রান্সের একটি চলচ্চিত্র প্রযোজক ইউনিয়নের প্রধান পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ক্যারোলিন ল্যাং বলেছেন, তিনি এপস্টিনের সঙ্গে পরিচিত হন যখন তিনি তরুণ শিল্পীদের বিনিয়োগের আগ্রহ দেখান। তবে তাঁর দাবি, এপস্টিন সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে তিনি অর্থ বিনিয়োগ করেননি কিংবা সেখান থেকে কোনো অর্থ পাননি। তিনি নিজেকে অত্যন্ত সরল ও অসচেতন বলে উল্লেখ করেছেন।
ল্যাং গণমাধ্যমে বলেছেন, বহু বছর আগে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর দেখা হলেও তখন তাঁর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন মার্কিন অভিনেতা ও পরিচালক উডি অ্যালেন। ল্যাং এপস্টিনকে সংস্কৃতি ও শিল্পের প্রতি আগ্রহী একজন ব্যক্তি হিসেবেই দেখেছিলেন বলে দাবি করেন।
এপস্টিন ফাইলস থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ল্যাং ও তাঁর পরিবার এপস্টিনের কাছে সহায়তা বা সুবিধা চেয়েছিলেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব নথিতে ল্যাং বা তাঁর কন্যার বিরুদ্ধে এপস্টিনের যৌন অপরাধে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রকাশিত এপস্টিন সংক্রান্ত বিপুল নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তবে শুধু নাম উল্লেখ থাকা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। এপস্টিন কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
















