১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিচ্যুতি হলে কঠোর ব্যবস্থা; নজরদারিতে ড্রোন ও ‘সুরক্ষা অ্যাপ’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) খুলনায় আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিল এবং এর সহযোগীদের আজ যে করুণ পরিণতি (জেল, পলাতক বা চাকরিচ্যুতি) হয়েছে, তা থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সামান্যতম অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা কোনো বিচ্যুতি ঘটলে প্রিজাইডিং অফিসার থেকে রিটার্নিং অফিসার—সবাইকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একটি আন্তর্জাতিক মানের ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে এবারই প্রথম ড্রোন, সিসিটিভি এবং এনটিএমসি-র তৈরি বিশেষ ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ ব্যবহার করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | রাত ১:৩০ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা
খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বিজিবি মহাপরিচালক এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাসিবাদের পতন ও ঐতিহাসিক শিক্ষা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন:
- অতীতের গ্লানি: বিগত সরকারগুলো নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। যারা সেই প্রক্রিয়ায় মদদ দিয়েছিল, তাদের অনেকেই আজ কাঠগড়ায়।
- কর্মকর্তাদের প্রতি বার্তা: “যারা পক্ষপাতিত্ব করেছেন, তারা আজ সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে বিতর্কিত। আপনাদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরাও আজ কঠিন পরীক্ষার ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করবেন না।”
প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং
নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার তিন স্তরের বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:
১. নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬: এনটিএমসি (NTMC) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই অ্যাপের মাধ্যমে যে কোনো অভিযোগ তাৎক্ষণিক গ্রহণ ও প্রতিকার করা হবে। ২. ডিজিটাল নজরদারি: ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে আকাশপথেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
৩. কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে, যেখানে সকল বাহিনীর প্রতিনিধিরা মাঠ পর্যায়ের প্রতি মুহূর্তের তথ্য আদান-প্রদান করবেন।
সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য নির্দেশনা
উপদেষ্টা নির্বাচনের দিন তথ্য প্রবাহ সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন:
- অবাধ প্রবেশাধিকার: দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের দ্রুত পরিচয়পত্র বা পাস কার্ড দিতে হবে। ভোটকেন্দ্রে তাদের তথ্য সংগ্রহে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না।
- বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ: সাংবাদিকদের প্রতি অপতথ্য বা ভুয়া খবর পরিহার করে সত্য সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান তিনি, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
নির্বাচনকালীন কঠোর ব্যবস্থা
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে দায়ভার কেবল মাঠ পর্যায়ের সদস্যের ওপর নয়, বরং চেইন অফ কমান্ড অনুযায়ী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপরও বর্তাবে। সাধারণ জনগণ যাতে আনন্দের সাথে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল পরীক্ষা।
















