জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) দক্ষিনাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে পুলিশ, প্রশাসনকে সামনে রেখে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মরা মানুষ এসে ভোট দিয়েছে যার ফলাফল হিসেবে ৫ই আগস্ট হয়েছে। তবে প্রশাসনের অনেকেই চায় একটি গ্রহনযোগ্য ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ প্রেমিকরা ক্ষমতায় আসুক। কিন্তু কিছু লোভী বেনজীর, হারুণ আর বিপ্লবরা উদয় হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে বিগত সময় থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচন ১৪ শহিদ আর বিগত গুম, খুন, নিযর্যাতনের জবাব দেয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচনের জন্য বহু রক্ত ঝরেছে, অনেক স্ত্রী তার স্বামী হারিয়েছে, অনেক মা তার সন্তান হারিয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে প্রশাসন জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে আবারো একটি ৫ ই আগস্ট হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এই দেশকে ভোট চোরদের হাতে তুলে দেয়া হবে নাকি জনতার হাতে তুলে দেয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত প্রশাসনকেও নিতে হবে।
তিনি আজ বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসাইন আশরাফীর সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আশ পাশে দেখা যায় গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির টাকা এখন নির্বাচনে আনা হচ্ছে। তবে আমরা জনগনের উপর বিশ্বাস রাখতে চাই ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের প্রত্যাখান করবে।
মানুষ চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজিতে অতিষ্ঠ। তাই ১১ দলীয় জোট যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে সেই বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা টাকার কাছে গোলামী স্বীকার করবে নাকি, সঠিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পাঁচ বছরের জন্য মালিক হবেন।
নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নবীনগর উপজেলা শাখার আমীর মোখলেছুর রহমান। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন জামায়াতে ইসলামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আমীর মোঃ মোবারক হোসাইন।
এ সময় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, আমরা দেখলাম সারা মিডিয়ায়, সবজায়গায় একটা দলের শুধুমাত্র বন্দনা-প্রশংসা; শুধুমাত্র বিএনপির জন্য। মিডিয়া খবরের মাঝে-মাঝে বিএনপির প্রচারণা চালায়। আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি নিরপেক্ষা ভূমিকা পালন না করেন, জনগণ এবার মিডিয়াকেও লালকার্ড দেখাবে।
এদিকে নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে বিভিন্ন স্থান থেকে ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থকরা দলে দলে মিছিল নিয়ে সভাস্থলে যোগ দেন।
















