মিয়ানমারভিত্তিক স্ক্যাম সেন্টার ও জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। এসব কার্যক্রমের ফলে ছয়জন চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির আদালত।
দক্ষিণ চীনের শেনঝেন ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট সোমবার এক বিবৃতিতে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করে। তবে ঠিক কবে এসব দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে গত সপ্তাহে মিয়ানমারে পরিচালিত স্ক্যাম সেন্টারের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে দণ্ডিত আরও ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছিল চীন।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনকে নিয়ে গঠিত একটি চক্র মিয়ানমারের কোকাং অঞ্চলে শিল্প পার্ক স্থাপন করে সেখান থেকে জুয়া ও টেলিকম প্রতারণা পরিচালনা করছিল। চীন সীমান্তসংলগ্ন ওই এলাকা থেকে অপহরণ, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি এবং মাদক উৎপাদন ও পাচারের মতো অপরাধও চালানো হতো।
এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা প্রায় ২৯ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা করেছে। এসব অপরাধের ফলে ছয়জন চীনা নাগরিক মারা যান এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্তদের অপরাধ ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও মারাত্মক, যার প্রভাব সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও প্রাদেশিক উচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়।
এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর চীনের বৃহত্তর অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে গড়ে ওঠা স্ক্যাম সেন্টারগুলো দমন করা। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসে এসব স্ক্যাম পার্ক শিল্প পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ভুক্তভোগীদের টার্গেট করছে।
এসব কেন্দ্রে চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মানবপাচারের মাধ্যমে বা প্রলোভনে এনে অনলাইন প্রতারণার কাজে লাগানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে অপহরণ, নির্যাতন ও জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ স্ক্যাম সেন্টার চীনা নেতৃত্বাধীন অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে, যারা মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগসাজশ করে দেশটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সামরিক সরকার এসব কর্মকাণ্ডে চোখ বন্ধ করে রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে চীনের চাপের মুখে গত এক বছরে তারা কিছু অভিযানের কথা প্রচার করেছে। গত অক্টোবরে থাইল্যান্ড সীমান্তের কুখ্যাত কেকে পার্কে অভিযান চালিয়ে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তারের কথাও জানানো হয়।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব অভিযানের কিছু অংশ কেবল প্রচারণামূলক, যাতে বেইজিংয়ের চাপ সামাল দেওয়া যায়, অথচ সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত মিলিশিয়াদের লাভজনক অপরাধ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের আঘাত না লাগে।
















