যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত নতুন তথ্যচিত্র মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বক্স অফিসে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ছবিটি উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ডলার আয় করবে। তবে বাস্তবে সেই পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিনোদন শিল্প বিশ্লেষকেরা একে তথ্যচিত্রের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
মেলানিয়া নামের এই তথ্যচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সময়টুকুতে মেলানিয়া ট্রাম্পের জীবনকে ঘনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটির প্রযোজকদের মধ্যেও রয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প নিজেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজন বিশ্বব্যাপী পরিবেশনার স্বত্ব কিনতে ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে এবং বিপণনে আরও প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এ কারণে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল তথ্যচিত্র বলা হচ্ছে।
ডেডলাইন জানিয়েছে, গত এক দশকে এটি কোনো নন-ফিকশন চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়। তবে বিপুল বিনিয়োগের কারণে লাভের মুখ দেখতে হলে ছবিটিকে আরও অনেক বেশি আয় করতে হবে।
মেলানিয়া ট্রাম্প দাবি করেছেন, দর্শকদের মধ্যে ছবিটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। সিনেমাস্কোর জরিপে এটি এ গ্রেড পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনলাইন রিভিউ প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের স্কোরও অত্যন্ত ইতিবাচক।
তবে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া একেবারেই ভিন্ন। সমালোচকরা ছবিটিকে অতিমাত্রায় সাজানো ও নিয়ন্ত্রিত বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ এটিকে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্যপূর্ণ একটি প্রচারণামূলক ছবি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
কয়েকটি গণমাধ্যম অবশ্য ভিন্নমতও প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, যারা মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়েই আগ্রহী, তাদের কাছে এই তথ্যচিত্র আকর্ষণীয় হতে পারে।
এদিকে অ্যামাজনের এত বড় অঙ্কের বিনিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, এটি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক সম্পর্কের দিকটিও এতে ভূমিকা রেখেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অ্যামাজন কি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে। তবে অ্যামাজন বলছে, তারা ছবিটি কিনেছে একমাত্র দর্শকদের পছন্দের কথা বিবেচনা করেই।
অ্যামাজন আরও জানিয়েছে, এই তথ্যচিত্রের পাশাপাশি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে একটি ধারাবাহিক তথ্যচিত্র সিরিজও তারা তৈরি করবে।
ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পেয়েছে। তবে সেখানে বক্স অফিস আয়ের তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তথ্যচিত্রটির পরিচালক ব্রেট র্যাটনার। ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর এটি তার প্রথম কাজ। সম্প্রতি তার কিছু ছবি প্রকাশ পাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলেও সংশ্লিষ্ট নথিতে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
















