হলিউড সাইন ট্রাস্টের প্রধান দাবি করেছেন, অভিনেত্রী সিডনি সুইনির একটি ভাইরাল ভিডিওতে সিজিআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে জনপ্রিয় হলিউড সাইনটি অসংখ্য ব্রা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বলে দেখা যায়।
গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে ইউফোরিয়া খ্যাত অভিনেত্রী সিডনি সুইনিকে একটি দলসহ রাতের বেলায় হলিউড সাইনের কাছে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, তারা ব্যাগ থেকে ব্রা বের করে সেগুলো একসঙ্গে বেঁধে সাইনের বিভিন্ন অংশে ছুড়ে দিচ্ছেন। শেষ দৃশ্যে পুরো সাইনটি ব্রার শিকলে ঢাকা বলে মনে হয়।
তবে হলিউড সাইন ট্রাস্টের প্রধান জেফ জারিনাম বলেন, ওই ভিডিওর শেষ অংশগুলো ডিজিটালভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। তার দাবি, এত অল্প সময়ে এবং রাতের আঁধারে ৫০ ফুট উঁচু অক্ষরগুলোতে ওঠা ও সেগুলো ঢেকে ফেলা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, অতীতে অনুমতি নিয়ে যেসব অনুষ্ঠানে হলিউড সাইন পরিবর্তন করা হয়েছে, সেগুলোর জন্য দীর্ঘ পরিকল্পনা ও বহু ঘণ্টার কাজ প্রয়োজন হয়েছে। তার মতে, ওই ভিডিওতে দেখা দৃশ্য বাস্তবে সম্ভব নয়।
জারিনাম আরও জানান, ভিডিওতে সিডনি সুইনিকে যে অক্ষরে ওঠতে দেখা যায়, সেটি নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন তিনি এইচ অক্ষরে উঠেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি এল অক্ষরে উঠেছিলেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এইচ অক্ষরে ওঠার চেষ্টা করলে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
ভিডিওটি সিডনি সুইনির নতুন অন্তর্বাস ব্র্যান্ডের প্রচারণার অংশ হিসেবে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। তবে হলিউড সাইন ট্রাস্ট জানায়, এই শুটিংয়ের জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।
যদিও সংশ্লিষ্টরা শহর কর্তৃপক্ষ ও গ্রিফিথ পার্ক এলাকায় চিত্রায়নের জন্য কিছু অনুমতি পেয়েছিলেন, তবুও সাইনের চারপাশের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের অনুমতি ছিল না। পাশাপাশি হলিউড সাইনের ছবির স্বত্বাধিকারী সংস্থাও এই প্রচারণার জন্য কোনো লাইসেন্স দেয়নি।
ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, কেন নিরাপত্তা সেন্সর সক্রিয় হওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ জানায়, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ নথিভুক্ত হয়নি এবং কোনো অপরাধ ঘটেনি।
জারিনাম বলেন, সাইনের কাছে সেন্সর সক্রিয় হয়েছিল এবং আশপাশের বাসিন্দারা তাকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু ভুল যোগাযোগের কারণে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজস্ব তদন্ত চালাচ্ছেন এবং তথ্য যাচাই শেষে অভিযোগ দায়ের করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদারের কথাও বলেন তিনি।
এ বিষয়ে সিডনি সুইনি বা তার প্রতিনিধিরা এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
















