নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাদুনা রাজ্যে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হাতে অপহৃত অন্তত ৮০ জন উপাসক পালিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
গত মাসে কুরমিন ওয়ালি নামের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে তিনটি গির্জা থেকে মোট ১৭৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তাদের মধ্যেই ছিলেন এই ৮০ জন।
কাদুনা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র মানসুর হাসান জানান, অপহরণের দিনই তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুনরায় ধরা পড়ার ভয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে লুকিয়ে ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো আটক থাকা বাকি ৮৬ জনকে মুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই হামলাটি নাইজেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের ধারাবাহিক ঘটনার অংশ হলেও এখনো কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি।
প্রথমদিকে পুলিশ এই হামলার ঘটনা অস্বীকার করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমে ১৭৭ জন উপাসক অপহৃত হওয়ার তথ্য জানালে ২১ জানুয়ারি তা নিশ্চিত করা হয়। সে সময় ১১ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক অস্বীকৃতির ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তীব্র সমালোচনা করে এবং একে কর্তৃপক্ষের মরিয়া অস্বীকার বলে আখ্যা দেয়। সংগঠনটি দেশজুড়ে বাড়তে থাকা অপহরণ ঠেকাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
এর আগে নভেম্বরে কাদুনার পার্শ্ববর্তী নাইজার রাজ্যে একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের দুই দফায় মুক্তি দেওয়া হয়।
অপহরণের পাশাপাশি নাইজেরিয়া আরও নানা নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলামপন্থি বিদ্রোহ, দক্ষিণ-পূর্বে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা এবং মধ্যাঞ্চলে জমি ও পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কৃষক ও পশুপালকদের সংঘর্ষ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি, দুর্বল গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অর্থসংকটে ভোগা স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর কারণে এসব সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মনোযোগও কেড়েছে। গত ডিসেম্বরে বড়দিনে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর দুটি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, খ্রিস্টানদের ওপর হামলা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও হামলা চালানো হতে পারে।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ায় ২৫০টির বেশি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। দেশটি মোটামুটি মুসলিম-প্রধান উত্তর ও খ্রিস্টান-প্রধান দক্ষিণে বিভক্ত হলেও মধ্যাঞ্চলে উভয় ধর্মের মানুষের মিশ্র বসবাস রয়েছে।
সরকারের দাবি, এই সহিংসতায় সব ধর্মের মানুষই ভুক্তভোগী হচ্ছে।
















