আফ্রিকান বংশোদ্ভূত প্রবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ঘানা সরকার। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, ব্যবহারবান্ধব ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করা।
২০১৬ সাল থেকে যেসব ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেন যে তাদের পূর্বপুরুষ আফ্রিকা থেকে এসেছেন, তারা ঘানার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পেয়ে আসছিলেন। মূলত দাসপ্রথার সময় আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে জোরপূর্বক নেওয়া আফ্রিকানদের বংশধরদের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক হাজারের বেশি মানুষ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘানার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী স্টিভি ওয়ান্ডারও রয়েছেন।
তবে আবেদনকারীদের একটি অংশ প্রক্রিয়ার জটিলতা ও উচ্চ ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আবেদন করতে গিয়ে একাধিক ধাপ পেরোতে হয়, যা অনেকের জন্য সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
ডায়াসপোরা আফ্রিকান ফোরামের রাষ্ট্রদূত ড. এরিয়েকা বেনেট বলেন, আবেদন জমা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার প্রমাণ দিতে হওয়ায় অনেক আবেদনকারী সমস্যায় পড়েছেন। তার মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদন জোগাড় করা অধিকাংশ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত কাগজপত্র এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার শর্তটিও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খরচ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। নাগরিকত্ব আবেদনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৬ মার্কিন ডলার। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হলে আবেদনকারীকে আরও ২ হাজার ২৮০ ডলার পরিশোধ করতে হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে একদিনের নাগরিকত্ব ওরিয়েন্টেশনে অংশ নিতে হয় এবং শেষে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
ড. বেনেট আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হবে এবং নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়া আবার চালু হবে।
সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত সময়সূচি ও নতুন নির্দেশনা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
এই স্থগিতাদেশের কারণে অনেক সম্ভাব্য আবেদনকারী উদ্বেগে পড়েছেন। যারা ঘানায় স্থায়ীভাবে বসবাস, বিনিয়োগ বা ব্যবসা করার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আফ্রিকার বাইরে বসবাসকারী আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের সঙ্গে ঘানার যোগাযোগের পেছনে রয়েছে দেশটির স্বাধীনতা-পরবর্তী প্যান-আফ্রিকান দর্শন। ঘানার প্রথম রাষ্ট্রপতি কোয়ামে নক্রুমাহ এই দর্শনের প্রবক্তা ছিলেন।
২০১৯ সালে এই উদ্যোগকে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হয় ‘ইয়ার অব রিটার্ন’ কর্মসূচির মাধ্যমে, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের ঘানার সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত করা।
বর্তমানে প্রবাসী আফ্রিকানরা ঘানায় আবাসন, কৃষি, প্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করছেন। নাগরিকত্ব পেলে তারা জমির মালিকানা, ভোটাধিকার ও সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ পান।
ঘানার পাশাপাশি বেনিন ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশগুলোও পূর্বপুরুষের প্রমাণের ভিত্তিতে আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছে।
















