নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে বলেছেন, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়ে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট যে ভুল সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেছেন, তিনি তাতে একমত। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত সাম্প্রতিক নথিতে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগের উল্লেখ শতাধিকবার এসেছে।
রাজপরিবারের জন্য এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ ৩৮টি অভিযোগে সাত সপ্তাহের বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। মামলাটি শুরু হবে অসলোতে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ রাখা ছিল তার ভুল সিদ্ধান্ত এবং তিনি এ নিয়ে অনুতপ্ত। তিনি বিষয়টিকে বিব্রতকর বলে উল্লেখ করেন এবং এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকারদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্টোরে প্রকাশ্যে তার এই স্বীকারোক্তির সঙ্গে একমত পোষণ করেন, যা নরওয়ের রাজপরিবার প্রসঙ্গে সাধারণত বিরল বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থোরবিয়র্ন ইয়াগলান্ডের সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা করেন। ইয়াগলান্ড একসময় এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পারিবারিক ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেছিলেন, যদিও পরে তা বাতিল করেন।
নতুন নথিতে আরও জানা যায়, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট চার দিন এপস্টেইনের ফ্লোরিডার পাম বিচের বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। ইমেইল বিনিময়ের কিছু অংশে তাদের যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট হয়েছে, যা নরওয়েতে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি বার্তায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তিনি এপস্টেইনের ২০০৮ সালের কারাদণ্ড সম্পর্কেও অবগত ছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নরওয়ের রাজপরিবার একাধিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রাউন প্রিন্সের বোন প্রিন্সেস মার্থা লুইজের একজন মার্কিন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিকে বিয়ে করা।
এদিকে মেটে-মারিটের স্বাস্থ্যের অবস্থাও উদ্বেগজনক। তিনি ফুসফুসের মারাত্মক রোগে ভুগছেন এবং চিকিৎসকেরা তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তার ২৯ বছর বয়সী ছেলে মারিয়ুস বর্গ হইবি রাজপরিবারের সদস্য নন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুমন্ত অবস্থায় এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন এবং অচেতন অবস্থায় নারীদের যৌন নির্যাতন, যা নরওয়ের আইনে ধর্ষণের শামিল। দোষী সাব্যস্ত হলে তার অন্তত ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এই মামলার বিচারে রাজপরিবারের কেউ উপস্থিত থাকবেন না। তবে গত সপ্তাহে এক আবেগঘন বক্তব্যে ক্রাউন প্রিন্স হোকন বলেন, এই মামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের সবার প্রতি তাদের সহমর্মিতা রয়েছে। তিনি জানান, তার সৎপুত্র রাজপরিবারের সদস্য না হলেও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।















