বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য অনুদান বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশের তহবিল সংকুচিত
ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ৬০ কোটি রুপি করা হয়েছে যা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। রোববার ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সংসদে যে বাজেট পেশ করেছেন, তাতে দেখা যায় বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ৬০ কোটি রুপি। গত অর্থবর্ষে এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১২০ কোটি রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের জন্য ভারতের আর্থিক সহায়তা ঠিক অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে ভারতের উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে এই বাজেটে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং দিল্লির সাথে সম্পর্কের শীতলতাকেও এই বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ভারতের সামগ্রিক অনুদান বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। এবারের বাজেটে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর জন্য মোট ৫,৬৮৫.৫৬ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে ভারত। এর মধ্যে বরাবরের মতো ভুটান সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে ২,২৮৮ কোটি রুপি পেয়েছে। এছাড়া নেপালকে ৮০০ কোটি এবং মালদ্বীপ ও মরিশাসকে ৫৫০ কোটি রুপি করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য এবার কোনো তহবিল রাখেনি দিল্লি, যা ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বলে মনে করা হচ্ছে।
















