ভারতে অবস্থানরত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি পাওয়া বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের জন্য চরম অবমাননাকর।
রোববার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের রাজধানীতে এমন আয়োজনের সুযোগ দেওয়া এবং শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতি ও রাষ্ট্রীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই বক্তব্য ঘৃণামূলক ও উসকানিমূলক।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মুখে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার শাসনামলে বিরোধী দল ও সমালোচকদের ওপর দমন-পীড়ন, কারাবন্দি ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছিল।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দমনে ভূমিকার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত অনুপস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। ওই সময় সহিংসতায় এক হাজার চারশোর বেশি মানুষ নিহত হন বলে সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে আক্রমণ করে বলেন, তার অধীনে কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অনলাইনে প্রচারিত ওই বক্তব্য লক্ষাধিক মানুষ দেখেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বক্তব্যে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানি দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের বক্তব্য একটি বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করেছে এবং এতে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার এর আগেও শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে, তবে ভারত এখনো সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা শেখ হাসিনার অপসারণের পর প্রথম নির্বাচন। এই নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না, কারণ নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।
বর্তমানে নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোটকে।
















