যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে ১০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন এবং ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঝড় ভারী তুষারপাত ও জমাট বৃষ্টির কারণে জনজীবন কার্যত অচল করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, রোববার থেকে সপ্তাহজুড়ে দেশের পূর্বাঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় ঝড়ের প্রভাব থাকবে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়ায় বিপজ্জনক ভ্রমণ পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, যা কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
রোববার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, টেনেসি অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মিসিসিপি, টেক্সাস, লুইজিয়ানা, কেনটাকি, জর্জিয়া, ভার্জিনিয়া ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওহাইও উপত্যকা থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিম্ন মিসিসিপি উপত্যকা থেকে মধ্য আটলান্টিক ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বরফ জমার আশঙ্কা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের এক আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঝড়, কারণ এর বিস্তৃতি অত্যন্ত বড়। প্রায় ২১ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের শীতকালীন আবহাওয়া সতর্কতার আওতায় রয়েছে। নিউ মেক্সিকো ও টেক্সাস থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ঝড়ের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
এই ঝড়কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ২০টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী এলাকায় ফেডারেল জরুরি অবস্থা ঘোষণা অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি জনগণকে নিরাপদে থাকার এবং উষ্ণ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার একদিনেই ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং আরও প্রায় ৮ হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। বড় বড় বিমান সংস্থা যাত্রীদের হঠাৎ সূচি পরিবর্তন ও বাতিলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ত্রাণসামগ্রী, জনবল এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সচিব সতর্ক করে বলেছেন, তীব্র শীতের জন্য সবাইকে জ্বালানি ও খাদ্য মজুত রাখার প্রস্তুতি নিতে হবে।
জ্বালানি বিভাগ মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ জরুরি নির্দেশ জারি করেছে, যাতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখা যায়।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বরফ জমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ব্যাপক গাছপালা ক্ষতি এবং চলাচলের অযোগ্য সড়ক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে যেসব অঞ্চল সাধারণত এত তীব্র শীতের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়।
কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে, ঝড়ের পর অন্তত এক সপ্তাহ প্রাণঘাতী ঠান্ডা স্থায়ী হতে পারে। উত্তরাঞ্চলীয় সমভূমি ও উচ্চ মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে বাতাসের প্রভাবে অনুভূত তাপমাত্রা মাইনাস পঞ্চাশ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি নেমে যেতে পারে, যা কয়েক মিনিটের মধ্যেই ত্বকে মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর মেরু অঞ্চলের ঠান্ডা ও নিম্নচাপের বায়ুপ্রবাহের কাঠামো বিকৃত হয়ে পড়ায় এই বিশাল ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন ঘটনার ঘনঘটা জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
















