‘সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেই’; অস্তিত্ব সংকটে সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলো
দেশের সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোকে রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিবাদে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব টেক্সটাইল মিল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিল চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।
২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর এই ঘোষণা দেশের পোশাক ও বস্ত্র খাতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিটিএমএ সভাপতির মতে, পুঁজি অর্ধেক হয়ে যাওয়া এবং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলাই তাঁদের এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো প্রতিকার না মেলায় এই ‘অচলাবস্থা’ তৈরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
টেক্সটাইল মিল মালিকদের প্রধান অভিযোগ ও সংকটসমূহ:
- পুঁজি সংকট: কাঁচামালের চড়া দাম এবং উৎপাদন খরচ বাড়ায় মিল মালিকদের মূলধন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
- ব্যাংক ঋণের বোঝা: শওকত আজিজ রাসেলের দাবি, সব সম্পত্তি বিক্রি করলেও ব্যাংকের পাওনা শোধ করা সম্ভব নয়। ফলে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত মিল।
- আমলাতান্ত্রিক উদাসীনতা: সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বারবার ধরণা দিলেও কর্মকর্তারা ‘পিলো পাসিং’ বা দায়িত্ব এড়ানোর নীতি অবলম্বন করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- অবৈধ সুতার প্রবেশ: শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে আসা সুতার কারণে দেশি মিলগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
এক নজরে বিটিএমএ’র ধর্মঘট ও শিল্প পরিস্থিতি:
| বিষয় | বর্তমান আপডেট |
| বন্ধের তারিখ | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু। |
| ঘোষণা দিয়েছেন | শওকত আজিজ রাসেল (সভাপতি, বিটিএমএ)। |
| মূল কারণ | আর্থিক দুরবস্থা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। |
| প্রভাব | পোশাক খাতের (RMG) কাঁচামাল বা সুতা সরবরাহে মারাত্মক সংকট। |
| দাবি | শুল্ক নীতি সংস্কার ও ব্যাংকিং সুবিধায় সহজ শর্ত। |
অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১ তারিখ থেকে ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেলে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। টেক্সটাইল মিলগুলো দেশের পোশাক খাতের প্রধান উৎস। সুতা উৎপাদন বন্ধ থাকলে তৈরি পোশাক রপ্তানিও স্থবির হয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বিটিএমএ সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার টেকসই কোনো সমাধান দেবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই মিলগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য তালাবদ্ধ থাকবে।
















