কেনিয়া আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগামী ২০ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৬ সাল দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। স্থানীয় ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিবেশ সহিংসতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে, আর ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ইতিহাসের নিম্ন পর্যায়ে থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
কেনিয়ায় নির্বাচনের সময় সহিংসতা প্রায়শই জাতিগত সংঘাতের কারণে নয়। এটি মূলত রাষ্ট্র দ্বারা সৃষ্ট ঘটনা, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত। প্রধান দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য এবং বর্তমান সভাপতি পুনর্নির্বাচনের জন্য দাঁড়াচ্ছেন কি না।
১৯৯১ সালে বহুপক্ষীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে কেনিয়ায় সাতটি প্রতিযোগিতামূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে উল্লেখযোগ্য সহিংসতা দেখা গেছে, সবগুলোতেই বর্তমান জনপ্রিয় নন প্রেসিডেন্ট পুনর্নির্বাচনের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। ২০০২, ২০১৩ এবং ২০২২ সালের নির্বাচনে, যখন বর্তমান কোনো প্রেসিডেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না, সহিংসতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
২০০৭ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর কেনিয়ায় কিছু উন্নতি হয়েছে। ২০১০ সালের সংবিধান রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহার সীমিত করেছে এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নির্বাচন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়াতে করা সংস্কারও নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে।
তবে এই অগ্রগতি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, কারণ প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত জুলাইয়ে স্বাধীন নির্বাচন ও সীমা কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে, তবে বিতর্ক ছাড়া নয়। এর ফলে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নভেম্বরের বেশ কয়েকটি উপনির্বাচনে বিশৃঙ্খলতা এবং সহিংসতা জনসাধারণের আস্থা আরও কমিয়েছে।
মিডিয়ার ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বড় মিডিয়া সংস্থা বছরের পর বছর ক্ষমতাসীনদের আতঙ্কে ভোটের ফলাফল ঘোষণা কমিশনের উপর ছেড়ে দিয়েছে, যা জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করেছে। ২০২২ সালে, ভোটকেন্দ্রের ফলাফল সাধারণভাবে উপলব্ধ থাকলেও, মিডিয়ারা স্বতন্ত্রভাবে ফলাফল বিশ্লেষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৭ সালের নির্বাচনে মিডিয়াকে স্বতন্ত্রভাবে ফলাফল যাচাই করতে এবং প্রকাশ করতে হবে।
ডিজিটাল যুগে প্রচারিত মিথ্যা তথ্যও সহিংসতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত ও ব্যাপকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াতে সক্ষম। যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা কম, সেখানে মিথ্যা তথ্য শুধু বিভ্রান্তিই নয়, ফলাফলকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করতে, আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এবং রাষ্ট্রীয় দমনকে বৈধতা দিতে পারে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বে কেনিয়ার নির্বাচনে সহিংসতা সীমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, তবে এখন তা ধ্বংসপ্রায়। পূর্ব আফ্রিকায় নির্বাচনের আগে সরকারগুলো দমননীতি স্বাভাবিক করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতা কমে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কেনিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা জোরদার করা জরুরি। স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করতে সংস্কারের দিকে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ২০০৭ সালের পর গঠিত ক্রিগলার কমিশন বলেছিল, ভোটের নিয়ম পরিবর্তন নির্বাচন থেকে কমপক্ষে দুই বছর আগে সম্পন্ন হওয়া উচিত, যা ইতিমধ্যেই শেষ সময়সীমা অতিক্রম করেছে।
তবে ২০২৬ সাল নাগরিক অংশগ্রহণ পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। ১৯৯০-এর দশকে সিভিল সোসাইটি, চার্চ এবং মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। জেনারেশন জেড-এর আন্দোলন দেখিয়েছে যে কিশোর-কিশোরীও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী। এবারও তারা রাস্তায় থাকতে পারে। প্রশ্ন হলো, বড়রা কি তাদের সাথে দাঁড়াবে রাষ্ট্রের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।
আগামী নির্বাচনের সহিংসতা অনিবার্য নয়, তবে তা প্রতিরোধ করতে হলে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জনসাধারণকে রাষ্ট্রের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সক্রিয় করা জরুরি। সময় সীমিত।
















