বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার দেশটি সংস্থাটি ছাড়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া সদস্য ফি প্রায় ২৬ কোটি মার্কিন ডলার। মার্কিন আইন অনুযায়ী, সংস্থা ছাড়ার আগে এক বছরের নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি সব বকেয়া পরিশোধ বাধ্যতামূলক। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বকেয়া পরিশোধ করেনি।
২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই নির্বাহী আদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়ার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, সংক্রমণ মোকাবিলা ও তথ্য আদান–প্রদানে সংস্থাটির ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণেই ভবিষ্যতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কোনো ধরনের সরকারি অর্থ, সহায়তা বা সম্পদ দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আদানম গেব্রেয়েসুস সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংস্থা ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তেমনি ক্ষতি হবে সারা বিশ্বের। তবে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগের অন্যতম বড় অর্থদাতা বিল গেটস জানিয়েছেন, নিকট ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার সম্ভাবনা কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান ও বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় সংস্থাটি মারাত্মক বাজেট সংকটে পড়েছে। ইতিমধ্যে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের জনবল অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির বাজেট কমানো হয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি নাগাদ সংস্থাটির প্রায় এক–চতুর্থাংশ কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবচেয়ে বড় অর্থদাতা দেশ, যা সংস্থার মোট বাজেটের প্রায় ১৮ শতাংশ জোগান দিত। ফলে দেশটির সরে যাওয়ায় বৈশ্বিক রোগ নজরদারি, প্রতিরোধ ও জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞ লরেন্স গোস্টিন বলেন, বকেয়া না মিটিয়ে সংস্থা ছাড়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে মার্কিন আইনের লঙ্ঘন। তবে বাস্তবে এর কোনো বড় আইনি পরিণতি নাও হতে পারে।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান কেলি হেনিং সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত, প্রতিরোধ ও মোকাবিলার জন্য যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যবস্থা রয়েছে, তা দুর্বল করে দিতে পারে।
















