গণভোট ও সংস্কার এগিয়ে নিতে ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য এনসিপি আহ্বায়কের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় ঐক্যজোট বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিন নেতার কবর জিয়ারত শেষে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ইনশাআল্লাহ বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং চলমান সংস্কার এগিয়ে নিতে এই ঐক্যের জয়ের কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি সারা দেশের ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা ১০ দলীয় ঐক্যজোটকে বিজয়ী করুন। জাতীয় নাগরিক পার্টির সারাদেশে যে ৩০ জন প্রার্থী রয়েছেন, তাদের সবাইকে শাপলা কলি মার্কায় বিজয়ী করে সংসদে পাঠান। সংসদে গিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের কথা, গণঅভ্যুত্থানের কথা, সংস্কার ও সার্বভৌমত্বের কথা বলব।”
এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “আমরা যেকোনো মূল্যে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এটা চাই। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে যাওয়া এখন আমাদের একমাত্র এজেন্ডা।”
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তার অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশন ও সরকার একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিচ্ছে। প্রচারের নিয়ম না থাকলেও তারা আগেই প্রচার চালিয়েছে, কিন্তু কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ আমরা শুধু গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার করায় আমাদের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, “নিরপেক্ষতা থাকতে হলে আচরণেও নিরপেক্ষ হতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি যেমন সংস্কার ও বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে আছে, তেমনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোট নিশ্চিত করার প্রশ্নেও আমরা আপসহীন।”
এদিন নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এ সময় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী–সহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন নেতারা। এরপর “মার্চ ফর জাস্টিস” কর্মসূচির মাধ্যমে মতিঝিলের উদ্দেশে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করে এনসিপি।
















