বিএনপি কর্মী–সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও কর্মী আহত করার অভিযোগ
পিরোজপুর–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহমুদ হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণা ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপি কর্মী–সমর্থকরা নির্বাচনী ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালিয়ে চেয়ার–টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং ক্যাম্পে টানানো ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় মাহমুদ হোসেনের কয়েকজন কর্মী আহত হন।
হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে মাহমুদ হোসেন বলেন, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর তিনি ছারছীনা শরীফের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। জিয়ারত শেষে স্বরূপকাঠীর নির্বাচনী ক্যাম্পে আলোচনা সভা চলাকালে বিএনপি প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর সুমন–এর সমর্থকরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাহমুদ হোসেনের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন তালুকদার ও তার ভাইসহ কয়েকজন ছিলেন। তিনি বলেন, “ভোটের আগেই এ ধরনের হামলা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা। এসব ঘটনা আমাকে শেখ হাসিনা আমলের দমন–পীড়নের কথা মনে করিয়ে দেয়।”
ঘটনার সময় তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুইজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে যৌথ টহল ও মহড়া দেওয়া হলে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় পরে মাহমুদ হোসেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন তালুকদার বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাদের অফিসে হামলা হয়েছে কি না, সেটাও আমার জানা নেই।”
এদিকে স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন বলেন, “যতদূর জানি, মাহমুদ হোসেন বিএনপির বহিষ্কৃত ব্যক্তি। তিনি দলের ছবি ব্যবহার করে সভা করছিলেন। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।”
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















