প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেও নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দল
দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে চার ডজনের বেশি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনে থেকে যাওয়ায় জোট রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্বস্তির মুখে পড়েছে দলটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই বিদ্রোহ ভোট বিভাজনের শঙ্কা বাড়াচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর নির্দেশ ও বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে এখনো ৪৫টির বেশি আসনে মোট ৯১ জন বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। আজ মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন হলেও বিদ্রোহীদের বড় একটি অংশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি।
দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অনেক সাবেক ও বর্তমান স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামায় বিএনপির তৃণমূল ইউনিটগুলোতে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এর ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে নির্বাচনী সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় পদে থাকা যাঁরা নির্বাচন করছেন, তাঁদের সরে দাঁড়ানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। অনেকে সরে গেছেন, আবার কেউ নির্দেশ অমান্য করায় বহিষ্কৃত হয়েছেন। আমরা আমাদের জোটসঙ্গীদের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি অবশ্যই রক্ষা করব।”
দলীয় সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–১ ও ৬, সুনামগঞ্জ–৫, বরিশাল–৩, ভোলা–১ এবং রাজশাহী–৬ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও জোট চুক্তির আওতায় মিত্র দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া অন্তত ছয়টি আসনে এখনো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।
জোটে বাড়ছে চাপ
জোটসঙ্গীদের জন্য বরাদ্দ আসনে বিএনপি নেতাদের প্রার্থী হওয়ায় জোটের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। একাধিক জোট নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে এটি বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ঝিনাইদহ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, একই আসনে একজন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত অনভিপ্রেত হয়ে উঠেছে। তাকে গুলশান কার্যালয়ে ডাকা হলেও তিনি সাড়া দেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাঠপর্যায়ের ক্ষোভ
বাংলাদেশ জাতীয় দলের (বিজেডি) চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় কমিটিগুলোর সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন।
একই অভিযোগ করেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। নড়াইল–২ আসনে তিনি বলেন, “শুধু ধানের শীষ প্রতীক থাকলেই হবে না, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত ছিল বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা করানো।”
বহিষ্কারেও থামছে না বিদ্রোহ
দলীয় প্রার্থী বা সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় অন্তত ১০ জন নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে তাদের অধিকাংশই এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।
আরেকটি ধাক্কা
এর মধ্যে বিএনপির তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দলটির আর কোনো বিকল্প প্রার্থী থাকছে না। বিষয়টি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নতুন করে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতারা। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিল ও রিটের মাধ্যমে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
দলীয় শীর্ষ নেতারা স্বীকার করছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইস্যু রাতারাতি সমাধান করা কঠিন। তবে দ্রুত সমাধান না হলে একাধিক আসনে বিএনপির নির্বাচনী অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন তারা।
















