হাসিনা যুগের অবসান হয়েছে বলে মন্তব্য; মায়ের ভারতে অবস্থানকে সবচেয়ে নিরাপদ বললেন জয়
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছেন, তাঁর মা আগে থেকেই রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং চলমান মেয়াদটিই তাঁর শেষ মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল। ওয়াশিংটন ডিসিতে বসে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জয় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়াকে ‘এক অর্থে হাসিনা যুগের অবসান’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
২২ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের সুরক্ষায় দেশটিতে অবস্থান করছেন। সাক্ষাৎকারে জয় দাবি করেন, হাসিনা বয়সের কারণে অবসরে যেতে চেয়েছিলেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতেও আওয়ামী লীগ টিকে থাকবে। তিনি বলেন, “কেউ চিরকাল বেঁচে থাকে না, শেখ হাসিনা থাকুন বা না থাকুন, প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো এই দল চলবেই।”
সাক্ষাৎকারে জয়ের প্রধান দাবি ও বক্তব্যসমূহ:
- অবসর পরিকল্পনা: জয় জানান, শেখ হাসিনা আগেই ঠিক করেছিলেন এটিই হবে তাঁর শেষ মেয়াদ। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অবসরে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
- গণহত্যার অডিও রেকর্ড: আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশের যে অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে জয় দাবি করেন—এগুলো ‘আউট অব কনটেক্সট’ বা প্রেক্ষাপটহীনভাবে প্রচার করা হয়েছে। তাঁর মতে, ওই নির্দেশ ছিল কেবল ‘জঙ্গিদের হাত থেকে সম্পদ রক্ষার জন্য’।
- প্রত্যর্পণ ও ভারত: বাংলাদেশকে হাসিনা হস্তান্তরের বিষয়ে জয়ের যুক্তি হলো, ভারত তাঁকে হস্তান্তর করবে না। কারণ তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং ভারত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে।
- আওয়ামী লীগের সক্ষমতা: শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড বা সাম্প্রতিক সহিংসতার দায় অস্বীকার করে জয় বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড চালানোর মতো সক্ষমতা আওয়ামী লীগের নেই। তেমন সক্ষমতা থাকলে এই সরকার কি এখনো টিকে থাকত?”
এক নজরে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য:
| বিষয় | জয়ের মন্তব্য/অবস্থান |
| রাজনীতিতে হাসিনা | এটিই ছিল তাঁর শেষ মেয়াদ; তিনি অবসরে যেতে চেয়েছিলেন। |
| দলের ভবিষ্যৎ | হাসিনা ছাড়াও আওয়ামী লীগ টিকে থাকবে ও চলবে। |
| নিরাপত্তা | বর্তমানে ভারতে অবস্থানই শেখ হাসিনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। |
| প্রত্যর্পণ ইস্যু | আইনি প্রমাণের অভাবে ভারত তাঁকে হস্তান্তর করবে না। |
| জুলাই গণহত্যা | প্রায় ১,৪০০ নিহতের ঘটনার দায় অস্বীকার ও জঙ্গিবাদ তত্ত্ব। |
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে জয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তাঁর মায়ের পক্ষে সাফাই গেয়ে আসছেন। তবে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু এবং অসংখ্য অডিও ক্লিপে হাসিনাকে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে। জয়ের এই সাক্ষাৎকার এমন সময় এল যখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিচার এবং তাঁকে ফেরত আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। বিশ্লেষকরা জয়ের এই বক্তব্যকে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।
















