আসামির মুক্তি মিলবে এক ঘণ্টায়; ভোগান্তি কমাতে ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা
বিচারপ্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে এবং আসামিদের হয়রানি কমাতে আরও ৮টি জেলায় ডিজিটাল জামিননামা বা ‘ই-বেইলবন্ড’ (e-Bail Bond) সেবার উদ্বোধন করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আধুনিক সেবার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে এখন থেকে উচ্চ আদালত বা নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর একজন বন্দিকে খুব দ্রুত মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জামিননামা পৌঁছাতে যেখানে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন লেগে যেত, অনলাইন পদ্ধতিতে এখন মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই আসামিকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ই-বেইলবন্ড সেবার প্রধান সুবিধাসমূহ:
- দ্রুত মুক্তি: আগে ১০ থেকে ১২টি ধাপ পার হয়ে জামিননামা কারাগারে পৌঁছাত। এখন ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।
- স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: অনলাইনে কোন কর্মকর্তা কখন জামিননামায় স্বাক্ষর করলেন, তার ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে। ফলে কেউ ইচ্ছা করে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে পারবে না।
- দুর্নীতি রোধ: জামিননামা কারাগারে পৌঁছানো নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও অর্থ লেনদেনের সুযোগ বন্ধ হবে।
- দেশব্যাপী সম্প্রসারণ: নারায়ণগঞ্জ জেলায় সফলভাবে চালুর পর আজ আরও ৮ জেলায় এটি শুরু হলো। আগামী ৬ মাসের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলাতেই এই সেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
এক নজরে ডিজিটাল জামিননামা প্রকল্প:
| বিষয় | বিবরণ |
| উদ্বোধনকারী | ড. আসিফ নজরুল, আইন উপদেষ্টা। |
| বর্তমান পরিধি | প্রাথমিক পর্যায়ের পর আজ নতুন আরও ৮ জেলা। |
| ভবিষ্যৎ লক্ষ্য | জুন ২০২৬-এর মধ্যে ৬৪ জেলা। |
| মুক্তির সময়সীমা | জামিন আদেশের পর সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা। |
| কারিগরি তদারকি | আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। |
আইন উপদেষ্টা জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তারা আরও কয়েকটি জেলায় এই সেবা চালুর চেষ্টা করছেন। পরবর্তী সরকার রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয় ছাড়া জনকল্যাণমূলক এই এসেনশিয়াল কাজগুলো সচল রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই ব্যবস্থার ফলে কারাগারের ওপর চাপ কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।
















