ভারতের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে ঢাকার পাশে ইসলামাবাদ; উত্তপ্ত ক্রিকেট কূটনীতি
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থায় নতুন মোড় নিয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলতে বিসিবির আপত্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) চিঠি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ঠিক আগের দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই চিঠি পাঠানোর ফলে দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
২১ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিসিবি শুধু আইসিসিকেই নয়, চিঠির অনুলিপি আইসিসি বোর্ডের সব সদস্যের কাছেও পাঠিয়েছে। মূলত প্রতিবেশী দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলতে না চাওয়ার যে যুক্তি বিসিবি দেখিয়েছে, তাকে ‘যৌক্তিক’ বলে মনে করছে পাকিস্তান। আজ বুধবার এ বিষয়ে আইসিসির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংকটের প্রেক্ষাপট ও পিসিবির অবস্থান:
- সমর্থনের কারণ: বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে তাদের দলকে সেখানে পাঠানো নিরাপদ নয়। পিসিবি এই অবস্থানকে সমর্থন দিয়ে আইসিসিকে পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
- ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি: বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। পিসিবির চিঠিতেও পরোক্ষভাবে এই দাবিকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।
- পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা: কিছু অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে পাকিস্তানও তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারে। এমনকি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়ার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে, যদিও এর কোনো দাপ্তরিক ভিত্তি এখনও মেলেনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: বর্তমান অচলাবস্থা
| পক্ষ | বর্তমান অবস্থান |
| বিসিবি (বাংলাদেশ) | ভারতে খেলতে যাবে না; ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবিতে অনড়। |
| পিসিবি (পাকিস্তান) | বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবির প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ও আইসিসিকে চিঠি। |
| আইসিসি | সূচি পরিবর্তনে নারাজ; ভারত ও শ্রীলঙ্কা—উভয় দেশেই টুর্নামেন্ট হবে। |
| বিসিসিআই (ভারত) | নিরাপত্তা ঝুঁকি ‘নগণ্য’ দাবি করে নির্ধারিত সূচিতে অনড়। |
পরবর্তী করণীয় ও আইসিসি বোর্ড সভা:
আইসিসি আজ বুধবার বিকেলের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। যদি আইসিসি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে বিশ্বকাপের সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে। বিসিবি ইতিমধ্যে বিকল্প হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। অন্যদিকে, পিসিবির এই আকস্মিক সমর্থনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
















