রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি, মূল্যস্ফীতি কমানোই বড় চ্যালেঞ্জ
ডিসেম্বরে অর্থনীতিতে মৃদু সম্প্রসারণ, কৃষি খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি
রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে দেশের অর্থনীতি আরও ভালো পথে এগোবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ ছাড়াও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলো বর্তমানে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। রিজার্ভ, রেমিট্যান্স এবং আমদানি-রপ্তানি আয় সন্তোষজনক হলেও মূল্যস্ফীতি আরও কমানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে ওই সেমিনারে ডিসেম্বর মাসের অর্থনৈতিক সূচকের চিত্র তুলে ধরা হয়।
গভর্নর জানান, চলতি মাসে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ বেশি এসেছে। বৈদেশিক খাতে বড় অগ্রগতি হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্যের দাম কমায় আমদানির ওপর চাপও হ্রাস পেয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, আগে তারল্য সংকট থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আমানত প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগামীতে তা ১৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি আশাবাদী।
সেমিনারে আলোচকরা জানান, কৃষি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কারণে ডিসেম্বর মাসে অর্থনীতিতে মৃদু সম্প্রসারণ দেখা গেছে। কৃষির পাশাপাশি উৎপাদন ও সেবা খাতও প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। তবে নির্মাণ খাত ছিল নেতিবাচক ধারায়।
আয়োজক সংস্থার তথ্যে বলা হয়, ডিসেম্বর মাসে দেশের অর্থনৈতিক সূচক শূন্য দশমিক ২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪ দশমিক ২ হয়েছে, যা সামান্য দ্রুততর সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। টানা চতুর্থ মাসের মতো কৃষি খাত সম্প্রসারণে রয়েছে এবং এই মাসে তার গতি আরও বেড়েছে। নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
















