ডেনমার্কের পার্লামেন্ট সদস্য ট্রিনে পার্তউ মাচ বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের উপর যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাম্রাজ্যবাদী দাপটের বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অন্তর্গত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও গত এক বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খোলাভাবে এই বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটি দখল করার হুমকি দিচ্ছেন। হুমকিগুলো ক্রমেই বাড়ছে এবং পরিস্থিতি আরো গুরুতর হতে পারে।
ডেনমার্কের পার্লামেন্টের বামপন্থী রেড-গ্রিন এলায়েন্স পার্টির বিদেশ বিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে মাচ বলেন, আমাদের উদ্বেগ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যতের উপর ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নয়। ৫৭ হাজার গ্রিনল্যান্ডার নিজের ভবিষ্যত এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিজেরা নির্ধারণের অধিকার রাখেন এবং আমরা তাদের স্বায়ত্তশাসন ও নিজের পথ নির্ধারণের অধিকার সমর্থন করি।
ডেনমার্কের প্রাক্তন ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র হিসেবে ঐতিহাসিক দায় এবং দায়িত্ব রয়েছে গ্রিনল্যান্ডকে তাদের গণতন্ত্র, টেকসই অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রত্বের দিকনির্দেশনা গড়তে সাহায্য করার। ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ডকে বাইরের আগ্রাসন ও আধিপত্য থেকে রক্ষা করতে হবে। ট্রাম্প স্বার্থপর নীতির মাধ্যমে দেশ দখলের পথ অনুসরণ করছেন, তিনি মুক্তি বা সহায়তার জন্য নয়।
মাচ উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি তার অমর্যাদা প্রদর্শন করে। এমন স্পষ্ট লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নীরব থাকা ভবিষ্যতে আরো অবৈধ আগ্রাসনের পথ সুগম করবে। বিশ্বে আক্রমণাত্মক ও স্বার্থপর নেতাদের বিরুদ্ধে ‘না’ বলার প্রয়োজন রয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বারবার বলেছেন যে গ্রিনল্যান্ডের সরকার এবং জনগণ মার্কিন নাগরিক হওয়ার বা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার কোনো ইচ্ছা রাখে না। তিনি কপেনহেগেনে জানিয়েছেন, “আমাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেনমার্কের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়, আমরা ডেনমার্ককে বেছে নেব।”
মাচ বলেন, ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকে ট্রাম্পের প্রশমনের নীতি থেকে সরে এসে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের চার্টার এবং স্বায়ত্তশাসনের অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এটি আমাদের সময়ের প্রধান সংগ্রাম।
















