যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন কংগ্রেসের একটি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে দেওয়া তলব মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি তাঁদের হাজিরা চেয়েছিল।
মঙ্গলবার পাঠানো এক চিঠিতে ক্লিনটন দম্পতি অভিযোগ করেন, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জেমস কমারের নেতৃত্বাধীন এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁদের মতো বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হয়রানি ও অপমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁরা দাবি করেন, তদন্তে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠদের আড়াল করা হচ্ছে।
চিঠিতে ক্লিনটনরা তলবকে আইনগতভাবে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই তদন্ত এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যেন তাঁদের কারাবন্দি করার পথ তৈরি করা হয়। তাঁরা জানান, নিজেদের সুরক্ষায় তাঁরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এর জবাবে প্রতিনিধি জেমস কমার বলেন, ক্লিনটন দম্পতির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ ভোটের প্রয়োজন হবে। সে প্রস্তাব পাস হলে বিচার বিভাগের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।
কমার সাংবাদিকদের বলেন, ক্লিনটনদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ তোলা হয়নি, তবে তাঁদের কাছে কিছু প্রশ্ন রয়েছে, যেগুলোর উত্তর জানতে চাওয়া হচ্ছে।
ক্লিনটন দম্পতি তাঁদের চিঠিতে আরও জানান, এপস্টিনের ভয়াবহ অপরাধের প্রেক্ষাপটে তাঁদের কাছে যতটুকু তথ্য ছিল, তা আগেই কমিটিকে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, সরাসরি হাজিরার তলবের উদ্দেশ্য কেবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
২০১৯ সালে বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় কারাগারে আত্মহত্যা করেন জেফ্রি এপস্টিন। এরপর থেকেই তাঁর প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা চলেছে। বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প—উভয়েরই এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয়ের তথ্য থাকলেও তাঁরা দুজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাচারের বিষয়ে কোনো জ্ঞান থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস বিচার বিভাগকে এপস্টিন–সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে আইন পাস করলেও এখন পর্যন্ত অল্প কিছু নথিই প্রকাশ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এসব নথি প্রকাশে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ঘিরে তথ্য সামনে আনা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের দুই আইনপ্রণেতা পৃথকভাবে একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নথি প্রকাশ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। তাঁদের দাবি, আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে গুরুতর আইনি লঙ্ঘন ঘটতে পারে।















