ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ দাবি করেছেন, দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে ৪০০–এর বেশি বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মুক্তি পাওয়া বন্দির সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ জনের বেশি নয়। এ নিয়ে সরকারি বক্তব্য ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর দাবির মধ্যে স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে রদ্রিগেজ বলেন, যাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁরা রাজনৈতিক বন্দি নন, বরং এমন কিছু রাজনীতিক ও ব্যক্তি, যাঁরা আইন ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছিলেন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ বা আগ্রাসনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, মোট মুক্তির সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার সংগঠন, বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে উঠে আসছে। তবে সরকার বরাবরই রাজনৈতিক বন্দি থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং বলছে, ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর বিক্ষোভের ঘটনায় আটক প্রায় ২ হাজার ব্যক্তির অধিকাংশকেই ইতিমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দির সংখ্যা ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০–এর মধ্যে। তাদের দাবি, গত এক সপ্তাহে যে কয়জন বন্দি মুক্তি পেয়েছেন, সেই সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ জনের বেশি নয়। তারা মুক্তির প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার কারা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার অন্তত ১১৬ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার একজন মার্কিন নাগরিকও কারামুক্ত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি ও পরিবহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ আরও বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ জব্দের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়েছে বলে জানা গেছে। গত কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে একাধিক জাহাজ আটক করা হয়েছে, যেগুলো ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করলে দেশটির তেল রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। পরে মার্কিন তত্ত্বাবধানে সীমিত আকারে রপ্তানি আবার শুরু হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।
এই প্রেক্ষাপটে বন্দি মুক্তির সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি হিসাবের পার্থক্য দেশটির রাজনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনকে আরও জটিল করে তুলেছে।













