ঝুলে থাকা বড় মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে ৭৫ কর্মকর্তার মেগা টিম; মাঠ পর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযানের ইঙ্গিত
দেশের উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি ও দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর তদন্তে গতি ফেরাতে একযোগে ১৫টি ‘বিশেষ তদন্ত দল’ (Special Investigation Team) গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিটি দলের নেতৃত্বে থাকছেন একজন উপপরিচালক, যাঁদের অধীনে কাজ করবেন দক্ষ ৭৫ জন সহকারী ও উপ-সহকারী কর্মকর্তা। মূলত স্পর্শকাতর এবং জনগুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই শক্তিশালী সেল গঠন করা হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুদকের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারিকৃত এক দাপ্তরিক আদেশে এই রদবদল ও নতুন কর্মপরিকল্পনার তথ্য জানানো হয়েছে।
দুদকের পরিচালক নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, নবগঠিত এই বিশেষ দলগুলো চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত দলের কাঠামো ও জনবল
দুদকের এই নতুন মিশনে জনবল বিন্যাস করা হয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে:
- নেতৃত্বে ১৫ উপপরিচালক: হাফিজুল ইসলাম, রাশেদুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলমসহ ১৫ জন অভিজ্ঞ উপপরিচালককে এই বিশেষ টিমের প্রধান করা হয়েছে।
- সহযোগী সদস্য: প্রতিটি টিমে ৫ জন করে সহকারী ও উপ-সহকারী কর্মকর্তা যুক্ত থাকছেন, যারা তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও আইনি বিশ্লেষণ করবেন।
- উইং ভিত্তিক সমন্বয়: প্রতিটি দল নিজ নিজ উইংয়ের অধীনে কাজ করবে এবং সরাসরি মহাপরিচালক বা পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকিতে থাকবে।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার বণ্টন
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সব চলমান তদন্ত এই বিশেষ দলগুলোর আওতায় আনা হলেও কাজের ধরণ অনুযায়ী ভাগ করা হচ্ছে: ১. গুরুত্বপূর্ণ মামলা: রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ, বড় ধরণের জালিয়াতি এবং শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তগুলো এই ১৫টি বিশেষ দল পরিচালনা করবে। ২. সাধারণ মামলা: তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বা রুটিন মাফিক মামলাগুলো বিশেষ দলের বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের কাছে ন্যস্ত করা হবে। ৩. যৌথ তদারকি: কোনো তদন্তই একজন সদস্যের একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হবে না; বরং দলীয় সমন্বয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
কমিশনের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে দুদকের তদন্তের মন্থর গতি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই ১৫টি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ফলে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বিদেশগামী অর্থ পাচারকারী এবং ব্যাংক খাতের দুর্নীতিবাজদের নথিপত্র এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
















