নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোতে সাময়িকভাবে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ দেশটিতে থাকা তিনটি প্রধান মিশনকে ভিসা সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আপাতত নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। এর আগে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন রাতারাতি ভিসা সেবায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। একই ধরনের পদক্ষেপ আগে নেওয়া হয়েছিল নয়াদিল্লি ও আগরতলায়।
তবে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ভিসা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। ভারতের মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন ভিসা বন্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর হলেও এটি অস্বাভাবিক নয়, কারণ একই ধরনের অভিবাসনসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কয়েকটি দেশের ওপরও আরোপ করা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা চালানো হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক গত কয়েক মাস ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক চাপে পড়ে।
এরপর ঢাকায় যুবনেতা শরীফ ওসমান হাদী হত্যার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ওই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ভারতবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে ময়মনসিংহে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠন ও হিন্দু ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করে। তারা ঘটনাটিকে ধর্মীয় চরমপন্থা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং সরকারি নিষ্ক্রিয়তার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে।
ভারতও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, কূটনৈতিক মিশনগুলোর সুরক্ষা এবং বাংলাদেশ থেকে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর বর্ণনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি দীপু চন্দ্র দাস হত্যার জন্য দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের অস্থিরতার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার চরমপন্থীদের শক্তিশালী করছে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
















