ইউরোপীয় ইউনিয়নের রেকর্ড ১৭৭ পর্যবেক্ষক আসছেন; বৃহস্পতিবার ইইউ প্রতিনিধি আইভার্স আইজাবসের ঢাকা সফর
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের ৩০টি প্রভাবশালী রাষ্ট্র এবং ৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে এত বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ইতিমধ্যে তাদের ১৭৭ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল পাঠানোর নিশ্চয়তা দিয়েছে, যার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক আইভার্স আইজাবস আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি গত দেড় দশকের মধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন (EU EOM): পরিকল্পনা ও সদস্য বিন্যাস
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘমেয়াদী এই মিশনটি ধাপে ধাপে বাংলাদেশে আসবে। মিশনের প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আইভার্স আইজাবস আগামীকাল পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় এসে প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।
- মিশনের আকার: সর্বমোট ১৭৭ জন প্রতিনিধি। এর মধ্যে ৯০ জনের মূল দল আসবে নির্বাচনের ঠিক আগে।
- কাজা কালাসের নেতৃত্ব: ইইউ’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাস নির্বাচনের সময় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মূল দলের নেতৃত্ব দেবেন।
- প্রতিবেদন দাখিল: নির্বাচনের দুই দিন পর এই মিশন তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে এবং পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জানুয়ারির শেষ নাগাদ জমা দেওয়া হবে।
আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশ ও সংস্থা
নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রের তালিকায় রয়েছে পাঁচটি বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা: ১. ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ২. কমনওয়েলথ (Commonwealth) ৩. ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (IRI) ৪. ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (NDI) ৫. অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (OIC)
আমন্ত্রিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। কর্মকর্তারা আশা করছেন, গত কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় এবারের অংশগ্রহণ হবে ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত।
জাতিসংঘের অবস্থান: পর্যবেক্ষক নয়, কারিগরি সহায়তা
আন্তর্জাতিক সংস্থার বড় অংশগ্রহণ থাকলেও জাতিসংঘ সরাসরি কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট ছাড়া জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে না। তবে তারা বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের ‘কারিগরি সহায়তা’ প্রদান করছে।
নিরাপত্তা ও কূটনীতিক পাড়ায় তোড়জোড়
বিশাল এই আন্তর্জাতিক বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আবাসন ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্তরের সুরক্ষা দেওয়া হবে বলে গত সপ্তাহে কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে আশ্বস্ত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
















