ইরানে চলমান অর্থনৈতিক বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তাকে ‘বেপরোয়া ও বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।
সপ্তাহজুড়ে চলা বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবরের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে’। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ অবস্থায় রয়েছে।
এর জবাবে আরাঘচি জানান, যেকোনো হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং তারা কোথায় আঘাত করতে হবে তা জানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের উদাহরণ টেনে ট্রাম্পের বোঝা উচিত যে জনসম্পত্তিতে হামলা সহ্য করা যায় না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।
শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভ নিয়ে বক্তব্য দিয়ে বলেন, ‘দাঙ্গাকারীদের তাদের জায়গায় বসাতে হবে’। তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার দরপতন নিয়ে দোকানিদের প্রাথমিক প্রতিবাদ যৌক্তিক ছিল, তবে শত্রুপক্ষের উসকানিতে কিছু মানুষ সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে বলে দাবি করেন।
বিক্ষোভ এখন তেহরান ছাড়িয়ে বিভিন্ন শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ মেহর ও ফারস সংবাদ সংস্থা জানায়, পশ্চিমাঞ্চলের মালেকশাহি শহরে একটি পুলিশ স্টেশনে ঢোকার চেষ্টাকালে দুই বিক্ষোভকারী ও এক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিহতের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার কথা বলেছে।
ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে প্রথমে তেহরানে দোকানিরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেন এবং সরকারবিরোধী স্লোগান ওঠে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লরদেগানে সংঘর্ষে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে ফারস ও মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও। পশ্চিমাঞ্চলের আজনা ও কুহদাশতে আরও কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও তারা বিক্ষোভকারী নাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া ফুলাদশাহর ও মারভদাশতেও মৃত্যুর খবর এসেছে।
এই মৃত্যুর তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর পর যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পর এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও মাত্রায় তা সেই সময়ের মতো নয়।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘যৌক্তিক দাবি’ শুনতে প্রস্তুত।
















