রিজার্ভের এই উল্লম্ফন দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এই রিজার্ভ কতটুকু কাজে লাগানো যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড: ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে ৪ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, ডলার সংকট কাটার ইঙ্গিত
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) শক্তিশালী প্রবাহ এবং বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ফলে গ্রস রিজার্ভ আবারও ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২৮.৫১ বিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্সের চমক ও ডলার ক্রয়
ডিসেম্বর মাসের মাত্র ২৯ দিনে দেশে ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসার ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনায় রিজার্ভের মজুত দ্রুত শক্তিশালী হয়েছে। অথচ গত নভেম্বর মাসে আকু-র (ACU) বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৩১.১৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল।
ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ও আমদানির সক্ষমতা
অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্রস রিজার্ভের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবহারযোগ্য বা খরচ করার মতো রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মাসে গড়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এই মজুত দিয়ে পরবর্তী চার মাসেরও বেশি সময়ের আমদানি খরচ মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের জন্য ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি রিজার্ভ থাকা আবশ্যক।
রিজার্ভের উত্থান-পতন: ২০১৭ থেকে ২০২৬
বাংলাদেশের রিজার্ভের ইতিহাসে ২০১৭ সালে প্রথমবার ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২১ সালের আগস্টে তা সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং ডলার সংকটের কারণে তা দ্রুত কমতে থাকে। ২০২২ সালে আইএমএফ-এর ঋণের আবেদনের পর থেকে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ফলে রিজার্ভ আবারও স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে।
















