‘নেত্রী নন, তিনিই যেন পুরো বাংলাদেশ’: খালেদা জিয়ার জানাজায় মানুষের ঢল; মায়ের হয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন তারেক রহমান
অবর্ণনীয় নির্যাতন, জেল-জুলুম আর দীর্ঘ সংগ্রামের এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। অগণিত মানুষের চোখের জল আর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরবিদায় নিলেন কোটি মানুষের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত তাঁর জানাজা পরিণত হয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে।
শহর থেকে গ্রাম, রাজনীতির মাঠ থেকে অন্দরমহল—সবখানেই এখন কেবলই হাহাকার। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা আজ অস্তমিত হলো।
জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ থেকে শুরু করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি, ধানমন্ডি, এমনকি কারওয়ান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল জানাজার কাতার। প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে স্থবির হয়ে পড়েছিল পুরো তিলোত্তমা ঢাকা।
তারেক রহমানের আবেগঘন বক্তব্য
জানাজার আগে পরিবারের পক্ষে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অত্যন্ত বিনয় ও আবেগের সাথে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় যদি আপনাদের কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, দয়া করে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি সেটি পরিশোধের ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও যোগ করেন, “উনার কোনো ব্যবহারে বা কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তবে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। আল্লাহ তাআলা যাতে উনাকে জান্নাতবাসী করেন, সেই দোয়া করবেন।”
এক কাতারে রাষ্ট্র ও রাজনীতির শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা
বেগম জিয়ার জানাজায় ফুটে ওঠে জাতীয় ঐক্যের এক বিরল চিত্র। জানাজার কাতারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এক পাশে দাঁড়ান তারেক রহমান এবং অন্যপাশে ছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ ছাড়াও তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই জানাজায় অংশ নেন।
অনন্তের পথে যাত্রা
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। সেখানে স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। নারীর ক্ষমতায়ন ও দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে পুরো দেশ।
















