৪১তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বড় ব্যবস্থা; প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণরত ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ৬ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) সরকারি চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। আগামী মাসেই এই ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তার আগেই বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখে পড়লেন এই কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১-এর বিধি ৬(২) (এ) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে অপসারণ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
অপসারিত কর্মকর্তাদের তালিকা
চাকরি হারানো ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৬ কর্মকর্তা হলেন: ১. মো. দেলোয়ার হোসেন ২. মাহমুদুল হক ৩. মো. ইসহাক হোসেন ৪. মো. মশিউর রহমান ৫. মুহাম্মদ রাকিব আনোয়ার ৬. সাঈদ করিম মুগ্ধ
সারদা পুলিশ একাডেমির প্রেক্ষাপট
সারদা পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ৪১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের মোট ১০২ জন কর্মকর্তা বর্তমানে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণে ছিলেন। দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে যখন তাঁরা পেশাদার জীবনে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ৬ জনের এই অপসারণের ঘটনা পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল ও অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই অপসারণের খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
নেপথ্যের কারণ ও বিসিএস পুলিশ ব্যাচগুলোর পরিস্থিতি
যদিও প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষানবিশকালে অসদাচরণ বা অনুপযুক্ততার প্রমাণ পেলে সরকার এমন ব্যবস্থা নিতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে ৪০তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচেরও বেশ কিছু কর্মকর্তার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।














