ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্স ব্যবস্থা ও কর সংস্কারের তাগিদ গবেষণা সংস্থার
ঢাকায় সরকার অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন মাত্র ৩৩০০টি, অথচ অবৈধ পয়েন্ট ৪৮ হাজারের বেশি—বিদ্যুৎ অপচয়, পরিবেশঝুঁকি ও বিপুল রাজস্ব ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে সিপিডির গবেষণায়।
রাজধানী ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এসব অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের কারণে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে সংস্থাটির গবেষণায় উঠে এসেছে।
সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশ বাংলাদেশেই তৈরি। তবে এই বিপুল যানবাহনের তুলনায় ঢাকায় সরকার অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন রয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৩০০টি।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘থ্রি-হুইলার রিকশাকে শহরের যাতায়াত ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার রিকশা শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও বিস্তৃত হয়েছে, যা এর জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। তবে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের ফলে মূল সড়ক ও মহাসড়কে যানজট, দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, যত্রতত্র অবৈধ চার্জিং স্টেশন স্থাপনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ, পরিবেশ দূষণ এবং রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতির মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
মূল প্রবন্ধে সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট খালিদ মাহমুদ জানান, বাণিজ্যিক হারে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হওয়ায় অনেক গ্যারেজ মালিক অবৈধভাবে চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনা করছেন। এর ফলে প্রতিবছর সরকার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
তিনি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বন্ধে গ্যারেজ মালিকদের লাইসেন্সিং ও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানান। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশে কর সংস্কার এবং জাতীয়ভাবে লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি সার্ভে পরিচালনার সুপারিশ করা হয়।
আলোচনা সভায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়–এর শিক্ষকসহ বিভিন্ন খাতের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সিপিডির মতে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট নীতিমালা, লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনলে এর নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে নগর পরিবহন ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে যুক্ত করা সম্ভব।















