ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশে মব অ্যাটাক বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে স্বাধীন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার আহ্বান জানিয়েছে Human Rights Watch (এইচআরডব্লিউ)।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশে যেসব ভিড়ের হামলা বা ‘মব অ্যাটাক’ ঘটছে, তা এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এসব সহিংসতা অব্যাহত থাকলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নাগরিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও গুরুতর আঘাত। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক পক্ষের উসকানিমূলক বক্তব্য সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী, এমনকি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদেরও ইচ্ছাকৃত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এইচআরডব্লিউর মতে, এই সহিংস পরিবেশের মধ্যেই এক নির্বাচনী প্রার্থী ও তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসা এই নেতা পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা রাখছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পর বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক সহিংসতা দমন ও আইনের শাসন কার্যকর করতে ব্যর্থতা নাগরিক পরিসরকে সংকুচিত করছে এবং নতুন করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “যুব নেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল একটি ভয়াবহ ঘটনা। এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”
এইচআরডব্লিউ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—সহিংসতার জন্য দায়ীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনপূর্ব সময়ে মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা।














