তাইপেই—শহরের ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ নেমে আসে আতঙ্ক। তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইয়ের কেন্দ্রস্থলে এক ব্যক্তি নির্বিচারে ছুরি হামলা ও ধোঁয়া বোমা নিক্ষেপ করলে প্রাণ হারান অন্তত তিনজন, আহত হন আরও পাঁচজন। হামলার পর পুলিশের ধাওয়ার মুখে একটি ভবন থেকে পড়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেও নিহত হন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই জানান, হামলাকারী প্রথমে তাইপেইয়ের প্রধান রেলস্টেশনে ধোঁয়া বোমা ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। এরপর তিনি কাছের একটি সাবওয়ে স্টেশনের দিকে ছুটে যান, যেখানে ভিড়ের মধ্যে পথচারীদের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত আক্রমণ। দীর্ঘ ছুরি হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তবে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
পুলিশের তাড়া খেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ভবন থেকে ঝাঁপ দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাইপেইয়ের মেয়র চিয়াং ওয়ান-আন সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ভবন থেকে লাফ দেন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, প্রধান স্টেশনে পড়ে থাকা একটি ক্যানিস্টার ঘিরে তদন্ত করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নিহত সন্দেহভাজনকে শুধু চ্যাং নামে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, তার বিরুদ্ধে আগেও অপরাধের রেকর্ড ছিল এবং একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলে ছিল। তার বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, তার অতীত, যোগাযোগ ও সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হবে, যাতে বোঝা যায় এই হামলার পেছনে আর কোনো কারণ বা সহযোগী ছিল কি না।
ঘটনার পর গোটা তাইওয়ানজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেলস্টেশন, মহাসড়ক, মেট্রো স্টেশন ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে বলেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনার সব দিক পরিষ্কার করবে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তাইওয়ানে এ ধরনের সহিংস অপরাধ তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে ২০১৪ সালে তাইপেই মেট্রোতে এক ছুরি হামলায় চারজন নিহত হওয়ার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে গভীর দাগ কেটে আছে। সেই ঘটনার অভিযুক্তকে ২০১৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এবারও তাইপেইয়ের রাত নীরব, কিন্তু বাতাসে ভাসছে ভয় আর প্রশ্ন—এই হঠাৎ সহিংসতার অর্থ কী?
















