সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের দাবি, আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থান সন্দেহভাজনদের
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িত সন্দেহভাজনরা ভারতে অবস্থান করছেন—এমন দাবি করেছেন আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তিনি বলেন, আসামের গুয়াহাটিতে তাদের সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতার ব্যক্তিগত সহকারী।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িত সন্দেহভাজনরা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন—এমন দাবি করেছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হামলার মূল শুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তাঁর সহযোগী মোটরসাইকেলচালক আলমগীর হোসেন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁদের বর্তমান অবস্থান ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি শহর।
জুলকারনাইন সায়ের আরও দাবি করেন, ভারতে অবস্থানকালে সন্দেহভাজনদের সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব। তাঁর তত্ত্বাবধানেই হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা সেখানে অবস্থান করছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
সায়ের তাঁর ফেসবুক পোস্টে আরও বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং একই ধরনের আরও হামলার জন্য একাধিক ‘হিট টিম’ প্রস্তুত রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, মূল শুটার ফয়সাল করিম তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে বলেছেন, ব্যবহৃত অস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তিনি একটি গুলির বেশি ছুড়তে পারেননি; পরিকল্পনা ছিল চারটি গুলি করার।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ফয়সালের মতোই আরেক অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাজ্জাদের নাম উঠে এসেছে। তিনি চলতি বছরের মে মাসে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান।
জুলকারনাইন সায়ের তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের যেসব অস্ত্রধারী ক্যাডার বিভিন্ন মামলায় জামিনে মুক্ত রয়েছেন, তাঁদের বর্তমান অবস্থান ও কর্মকাণ্ড দ্রুত যাচাই করা জরুরি। তাঁর মতে, এ ধরনের নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে সহিংস ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, এই তথ্যগুলো সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ব্যক্তিগত দাবি ও সূত্রভিত্তিক বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো সরকারি কোনো সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
















