কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার সময় রিসোর্টের কর্মীরা মালিকের পোষা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়ালকে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রিসোর্টটির রান্নাঘরে চায়ের জন্য চুলা জ্বালিয়ে এক কর্মী ঘুমিয়ে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মীদের সূত্রে জানা গেছে। কিছুক্ষণ পরই রান্নাঘর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তেই আগুন রিসোর্টের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। কাঠের তৈরি ভবন হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রিসোর্টের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই অধিকাংশ কর্মী এবং কয়েকজন অতিথি দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
রিসোর্টটির দ্বিতীয় তলায় মালিকের পোষা দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর চার-পাঁচজন কর্মী প্রাণীগুলোকে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসেন বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় তানভীরের ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদকেও আসামি করা হয়েছে। ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে আটক করে পুলিশ, পরে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তদন্তের স্বার্থে অপর এক আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
গ্রেপ্তারের আগে সাংবাদিকদের কাছে সুমন জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি ছাড়াও রিসোর্টে ১৯ জন কর্মী কর্মরত ছিলেন। আগুন লাগার পরপরই তারা প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে যান। এছাড়াও রিসোর্টের নয়টি কক্ষের ছয়টিতে ২১ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন বলে তিনি জানান।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রিসোর্টের মালিক তানভীর সুলতান মিয়া এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদ পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।






















