হত্যাচেষ্টার আগে গোয়েন্দা সংস্থাসহ উচ্চপর্যায়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের
ঢাকা–৮ আসনের প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের আগে জুলাই আন্দোলনের শীর্ষ কয়েকজন সংগঠকের ওপর হামলার আশঙ্কার তথ্য সরকারকে জানানো হয়েছিল—এমন অভিযোগ উঠেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিনের মাথায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাদিসহ অন্তত তিনজন ‘জুলাই যোদ্ধা’র ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার আগাম ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। তবে সে অনুযায়ী কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই ‘টার্গেট কিলিং’ তালিকায় হাদির পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদও ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় আগ্রাসন ও আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ায় তারা ঝুঁকিতে ছিলেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক আইনজীবীর সূত্রে এই হামলার আশঙ্কা সংক্রান্ত তথ্য প্রথম আসে। ওই আইনজীবী পেশাগত কারণে বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি ওই সময় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের কাছে সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সতর্কবার্তা পৌঁছে দেন।
শুধু তাই নয়, শরিফ ওসমান হাদিসহ সংশ্লিষ্ট তিন জুলাই সংগঠক নিজেরাও বিভিন্ন সময় সরকারের দায়িত্বশীলদের কাছে হুমকির বিষয়টি তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই আইনজীবীও আলাদাভাবে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ‘বিপদ আসন্ন’ বলে সতর্ক করেন।
এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে হামলার আশঙ্কার তথ্য পেয়ে আমরা সরকারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ালে সমস্যার সমাধান হয় না। মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে বডিগার্ড নিয়ে চলাফেরা করা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান, বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “ছিঁচকে চোর ধরে লোক দেখানো অভিযান শেষ পর্যন্ত সবার জন্য আত্মঘাতী হবে।”
সূত্র আরও জানায়, হামলার আশঙ্কার তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ওই আইনজীবী দ্রুত ঢাকায় এসে সেপ্টেম্বর মাসে হাসনাত আবদুল্লাহ, শরিফ ওসমান হাদি ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে উদ্বেগের কথা জানান। সরকারিভাবে তখন তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের রাজনীতির বাস্তবতায় তারা সেই প্রস্তাবে সম্মত হননি।
এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
















