যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার উপকূলে নিষিদ্ধ তেলবাহী জাহাজ আটক হওয়ার একদিন পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানালেন অটল সমর্থনের বার্তা। বৃহস্পতিবার নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। ক্রেমলিনের ভাষ্যে, এই কথোপকথন ছিল দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের উষ্ণতার নতুন অধ্যায়।
পুতিন মাদুরোকে আশ্বস্ত করেন যে রাশিয়া ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে তাদের পাশে থাকবে। ভেনেজুয়েলা সরকার জানায়, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃঢ়তা ও গভীরতা পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। তাদের সরাসরি যোগাযোগের পথ সবসময় খোলা থাকবে, এবং রাশিয়া লাতিন আমেরিকায় শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার সংগ্রামে ভেনেজুয়েলাকে সমর্থন করে যাবে।
এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার এই দেশটির প্রতি চাপ বাড়িয়ে চলেছে। মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ বাহিনী ক্যারিবীয় সাগরে একটি নিষিদ্ধ তেলবাহী জাহাজে ওঠে এবং সেটি জব্দ করে। ভেনেজুয়েলা এটিকে আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা বলে অভিহিত করেছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ট্যাঙ্কারগুলোর বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র কালোবাজারি তেলের আয় দিয়ে “অবৈধ শাসন ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী” কে সক্রিয় হতে দেবে না।
যদিও ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজটির নাম প্রকাশ করেনি, ব্রিটিশ ঝুঁকি বিশ্লেষণ সংস্থা ভ্যানগার্ড বলছে, আটক জাহাজটি সম্ভবত স্কিপার নামের ক্রুড তেলবাহী ট্যাঙ্কার। ২০২২ সালে হিজবুল্লাহ এবং ইরানের কুদস ফোর্সের জন্য তেল পরিবহনের অভিযোগে এটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছিল।
এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডেও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশের বড় উৎস নয়—এ দাবি ভিত্তিহীন।
মাদুরোর অভিযোগ, এই চাপ তার সরকারকে উৎখাত করারই কৌশল। একসময় বহু মিত্র থাকলেও এখন লাতিন আমেরিকায় ভেনেজুয়েলার পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে কেবল নিকারাগুয়া ও কিউবা। তবে রাশিয়া, চীন এবং ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতোই অটুট, বরং মার্কিন নীতির বিরোধিতায় আরও গভীর হয়েছে।
সমগ্র ঘটনাপ্রবাহ যেন ভেনেজুয়েলার দিগন্তজোড়া সংগ্রামের চিত্র—একদিকে সাম্রাজ্যবাদী চাপ, অন্যদিকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। অশান্তির এই সমুদ্রেও দেশটি আঁকড়ে ধরেছে তার স্বাধীনতার স্বপ্ন, আর দূর উত্তরের মিত্র রাশিয়া সেই স্বপ্নকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
















