মহেশখালী চ্যানেলে স্থাপিত জেটি ও সহায়ক কাঠামো অপসারণ, বকেয়া আদায় ও সমীক্ষার প্রস্তাব
কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পে সমুদ্রচ্যানেলের ঝুঁকি, পরিবেশগত প্রভাব ও রাজস্ব নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র জারি করা প্রতিবেদনে জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আহ্বানের সুপারিশ করা হয়েছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সমুদ্রবুকে নির্মিত জেটি ও অন্যান্য সহায়ক কাঠামো উচ্ছেদের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব বরাবরে পাঠানো বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা স্বাক্ষরিত সরকারি চিঠিতে এই সুপারিশ জানানো হয়।
বলা হয়েছে, মহেশখালী চ্যানেলের অভ্যন্তরে রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য স্থাপিত জেটি, পাইলিং ও অন্যান্য স্থাপনাগুলো নৌচ্যানেলের প্রবাহ ব্যাহত করতে পারে এবং ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ কারণে চার দফা সুপারিশ তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
প্রথম সুপারিশে বেবিচককে (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) পাইলিংসহ সহায়ক কাঠামো অপসারণের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়। অপসারণে ব্যর্থ হলে বিআইডব্লিউটিএ নিজ উদ্যোগে উচ্ছেদে নামার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, রানওয়ে সম্প্রসারণের কারণে চ্যানেলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিরূপণে বেবিচকের অর্থায়নে হাইড্রোমরফোলজিক্যাল স্টাডি, হাইড্রোডাইনামিক মডেলিং, সেডিমেন্ট ট্রান্সপোর্ট বিশ্লেষণ এবং পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (ESIA) করানোর প্রস্তাব করা হয়।
তৃতীয় সুপারিশে ফোরশোর ভূমি ব্যবহার, লোডিং-আনলোডিং ও অস্থায়ী জেটি নির্মাণ বাবদ বিআইডব্লিউটিএ’র অনুকূলে ভ্যাট-আয়করসহ মোট ৪ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩০ টাকা বকেয়া রাজস্ব আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। চতুর্থত, চ্যানেল রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বেবিচক, পর্যটন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে জরুরি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়—এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে আগেও অনুরোধ জানানো হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই দ্রুত সমন্বিত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
সরকার বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তিনটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ৩ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা, বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা, এবং আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণে ২৭৭ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা যায়।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে গত ১২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা করা হলেও মাত্র ১২ দিনের মাথায় সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়, যা স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
















