যশোরের মনিরামপুরের টেংরামারি গ্রামে স্থানীয় বিএনপি কর্মী জিয়াউর রহমান বলেন, তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরবেন এবং দলীয় নেতৃত্ব সামলে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। তিনি আশা করেন, দেশের স্বৈরাচারী শাসনের সময় মামলা-ভীতি পরিস্থিতির কারণে তার দেশে ফেরায় বাধা ছিল। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়ানোর পর থেকে তারেকের ফিরাকে কেন্দ্র করে দলীয় আশাব্যঞ্জক আলোচনা বেড়েছে।
২০০৮ সালে সেঞ্চুরির তৎপরতায় নির্দিষ্ট মেয়াদ কেটে লন্ডনে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনের পর থেকে ফিরে আসার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি নেতারা নানা বক্তব্য দিয়েছেন, তবু তিনি এখনো দেশে আসতে পারেননি। গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক আলোচনায় তার ফেরার ইস্যুটি তীব্র হয়। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি ব্যক্তিগত ও জটিল কারণে মায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত ভ্রমণ নিয়ে সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত নয় বলে জানিয়েছেন।
বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদকরা রাজধানী ও জেলা নগরীর বিভিন্ন স্তরের বিএনপি কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, সমর্থকেরা সাধারণত তারেকের দেশে ফেরাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কেউ কেউ মন খারাপ প্রকাশ করেছেন যে তার ফেরা না হওয়ায় দলের আন্দোলন-উদ্দীপনা কমে যেতে পারে। দলীয় নেতারা মনে করেন, যদি তিনি ফিরে আসে নেতাকর্মীরা উদ্দীপ্ত হবে ও নির্দেশনা মেনে কাজ করবে।
দলের জ্যেষ্ঠরা বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে—কিছু সমর্থক এ অভিযোগও করেন। ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম মিন্টু বলেন, তারেক ১৮ কোটি মানুষের নেতা এবং তার ফেরা নিয়ে ষড়যন্ত্র থাকা সম্ভাব্য বলে দেখেন। অনেকে দাবি করেন, সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তিনি ফিরে আসতে পারেন।
বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, রংপুর ও খুলনা—দেশের বিভিন্ন এলাকায় কথোপকথনে তরুণ-তৃণমূল থেকে প্রবীণ নেতারা বলেন, নির্বাচনের আগে তারেকের সক্রিয় উপস্থিতি দরকার। তরুণ ভোটারকেও আকৃষ্ট করতে হলে নেতার মাঠে থাকা জরুরি বলে অনেকে মনে করেন। তবু কিছু সমর্থক বিশ্বাস করেন তিনি ঠিক সময় ও পরিস্থিতি বিচার করে দেশ ফিরবেন; কেউ কেউ বলছেন তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তাকে না ফেরানোই যুক্তিযুক্ত।
কয়েক জন নেতার বক্তব্য, তারেকের দেশে না ফেরাকে নেতিবাচক বলেও মনে করছেন—তবে দলের অনেক কর্মী এখনও তার আগমনে নিশ্চিত। রংপুর ও অন্যান্য অঞ্চলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, তফসিল ঘোষণার পরে তার ফেরার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরবেন বলে দলের ওপর নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো তাদের বলেছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তফসিল প্রকাশের পর দ্রুত তারেকের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং হবে এবং ফেরার প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। বিএনপির তফসিল-প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি ও আদ্যবৃত্তিক প্রস্তুতির কারণে নেতারা ঢাকায় ফিরে নেতাদের নির্দেশনা দিয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড সামলাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
















