আজ ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন, আলোচনা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভিত্তি হোক মানবাধিকার’। জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর গ্রহণকৃত ‘মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র’ স্মরণ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন বার্তা ও আহ্বান দেওয়া হয়।
মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে গুম-সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন, আগের সরকারের সময় গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনা প্রবল ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে গুম কিংবা ক্রসফায়ারের মতো সরাসরি ঘটনার রিপোর্ট কমেছে হলেও তিনি মনে করেন মানবাধিকার লঙ্ঘন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে মব ভায়োলেন্স, মিথ্যা মামলায় সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণে মানুষকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
নূর খান আরও বলেন, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে এবং এই উৎসাহ ও ভীতি তৈরি হলে পরিস্থিতি অনেকটা বদলাতে পারে।
মানবাধিকার ও উন্নয়নকর্মী খুশী কবির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যে পরিস্থিতি ছিল—তার অনেকগুলো অনুরূপি এখনো চলছে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র শাসক বদল হয়েছে; ব্যবস্থার ভেতরগত পরিবর্তন এখনও হয়নি। জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও বাস্তব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা না ফিরলে মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, বলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও বাণী দিয়েছেন। তিনি মানবাধিকারকে বিশ্বাসের একটি অনিবার্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক মানুষ বৈষম্যহীনভাবে সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রাখে। তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদার ও জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্টভাবে কাজ করে জাতীয় মানবাধিকার কাঠামো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন, গত বছর জুলাইর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পর এই দিবস পালিত হচ্ছে—একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝেই দেশ এগোচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জনগণ নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অঙ্গীভূত হয়ে পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রেখেছিল, যা গণমানবিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) শুক্রবার সরকারের কাছে ১৫ দফা দাবি দাখিল করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা সংঘটিত সব প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া; অপরাধের দ্রুত বিচার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে উদ্যোগ গ্রহণ; এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
মানবাধিকার কর্মীরা মিলিতভাবে দাবি করছেন, বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা বিনষ্ট হলে মানবাধিকারের সুরক্ষা কঠিন হবে এবং সেইজন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও প্রোগ্রামে সহগামী সংস্কার জরুরি।
















