তফসিলের পর নিবন্ধন লিংক পাঠাবে ইসি; ৭৫টি কারাগারের ৭৬ হাজারের বেশি বন্দীর ভোটাধিকার নিশ্চিতের প্রস্তুতি চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সারা দেশের কারাগারে বন্দীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। নিবন্ধন, ব্যালট পাঠানো ও ভোট নেওয়ার পদ্ধতি চূড়ান্ত করছে নির্বাচন কমিশন ও কারা অধিদপ্তর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের মতো এবার দেশব্যাপী কারাগারে থাকা বন্দীরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি), কারা অধিদপ্তর এবং জেলা কারাগার থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর ইসি কারা কর্তৃপক্ষকে একটি নিবন্ধন লিংক দেবে, যার মাধ্যমে ভোটদানে আগ্রহী বন্দীরা তালিকাভুক্ত হবেন। তারা নিজ নিজ নির্বাচনী আসনের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
সূত্রগুলো জানায়, কারাগারের ভেতরে নির্বাচনকালীন কোনো ধরনের প্রচার হবে না এবং প্রার্থীদের এজেন্টও উপস্থিত থাকতে পারবেন না। ভোট গ্রহণ শেষে ডাক বিভাগের মাধ্যমে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হবে এবং চূড়ান্ত ফলাফলে তা যুক্ত হবে। বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দী সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮৫১ জন, যার মধ্যে হাজতি ৫৬ হাজার ১৩৭ এবং কয়েদি ২০ হাজার ৭১৪ জন।
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। প্রবাসীদের জন্য ‘পোস্টাল বিডি’ অ্যাপের নিবন্ধন চললেও আইনি হেফাজতে থাকা বন্দীদের জন্য আলাদা লিংক পাঠানো হবে। এ বিষয়ে ৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে কারা অধিদপ্তর ও জেলা কারাগারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা সূত্রে জানা যায়, তফসিল ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে কারাগার থেকে বন্দীদের তথ্য—নাম, এনআইডি ও ভোটার নম্বর—এক্সেল শিটে পাঠানো হবে। যাচাই-বাছাই শেষে ইসি নির্বাচনের ৭ থেকে ১০ দিন আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রতিটি কারাগারে ব্যালট পেপার পাঠাবে। নির্ধারিত বুথে গিয়ে বন্দীরা ভোট দেবেন, যা পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকা কারা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ডাকযোগে পাঠানো হবে।
কারাবিধি অনুসারে ভোটের সময় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকায় বন্দীরা টেলিভিশন ও পত্রিকায় পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভোট দেবেন। নিবন্ধনের পর কোনো বন্দী যদি কারামুক্ত হন, তবে বাইরে এসে তিনি আর ভোট দিতে পারবেন না।
কারা অধিদপ্তর জানায়, বন্দীরা সাধারণত আসা-যাওয়া করেন এবং অনেকেই নির্বাচনের আগে মুক্তি পান। ফলে বাস্তবে ২০ হাজারের মতো বন্দী ভোট দিলে তা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবেই দেখা হবে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, “আগ্রহী বন্দীরা নিবন্ধন করলে তাঁরা নিজ এলাকার প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। আগের তুলনায় এবার বন্দীদের ভোটদানে আগ্রহ বাড়বে বলে ধারণা।”
















