বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ গঠনে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন, ভূমিকম্পঝুঁকি মোকাবিলা ও গ্রিন বিল্ডিং মানদণ্ড নিশ্চিতের উদ্যোগ
উপদেষ্টা পরিষদ ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুমোদন দিয়েছে। সারা দেশে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, ভূমিকম্পঝুঁকি মোকাবিলা ও সবুজ ভবন নির্মাণ তদারকির দায়িত্ব পাবে নতুন কর্তৃপক্ষ।
সারা দেশে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ তদারকির জন্য নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুমোদিত হয়।
বিকেলে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নতুন এই কর্তৃপক্ষ বিল্ডিং কোড প্রতিপালন নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণে জাতীয় তদারকি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এটি একটি জাতীয় রেগুলেটরি অথরিটি—যা বিল্ডিং কোড বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞ স্থপতি, প্রকৌশলী, পরিকল্পনাবিদ ও অন্তত ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাদারদের নিয়ে এই সংস্থা গঠিত হবে। ভূমিকম্পঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণেও কর্তৃপক্ষ কাজ করবে।
তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার স্বীকৃত “প্যানেল অব এজেন্সি” গঠন করা হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত এসব সংস্থাই প্রকল্প যাচাই-বাছাই ও বাস্তবায়ন নিয়ন্ত্রণ করবে।

হাইটেক পার্ক সংশোধনী প্রসঙ্গে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, বহু উদ্যোক্তা জায়গা বরাদ্দ নিয়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখেন। তাই আইন সংশোধনের মাধ্যমে পাঁচ বছরের বেশি সময় উন্নয়ন কাজ না করলে জমি সরকার ফেরত নিতে পারবে—এমন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রেস সচিব আরও জানান, হাইটেক পার্ক আইন সংশোধনে কিছু নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করতে হবে। তাই বিষয়টি পরবর্তী বৈঠকে আবারও আলোচনায় আসবে। এ ছাড়া ‘বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ-২০২৫’-এরও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি দ্রুততর করতে সহায়ক হবে।
















