প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরতে বিদ্যানন্দের উদ্যোগে তৈরি ভাস্কর্য—সমুদ্র থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক দিয়ে গড়া এই ‘দানব’ মানবজাতির ওপর প্লাস্টিকের হিংস্র চাপের প্রতীক।
কক্সবাজার সৈকতে ৬ টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে নির্মিত ‘প্লাস্টিক দানব’ ভাস্কর্য উদ্বোধন। প্লাস্টিক দূষণের বিপদ ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আলোচনায়।
সমুদ্র দূষণের ক্রমবর্ধমান হুমকি তুলে ধরতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে তৈরি করা হয়েছে ‘প্লাস্টিকের দানব’। সমুদ্র থেকে সংগৃহীত প্রায় ৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে বানানো এই বিশাল ভাস্কর্য যেন দৃশ্যমান করে দিয়েছে—প্লাস্টিক এখন পৃথিবীর ওপর নামছে এক অদৃশ্য বিপর্যয়।
বুধবার সন্ধ্যায় সৈকতের সুগন্ধা সীগাল পয়েন্টে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত ভাস্কর্যটির উদ্বোধন হয়। ঢাবির চারুকলা বিভাগের শিল্পী আবীর কর্মকারের নেতৃত্বে একদল শিল্পী মাসব্যাপী কাজ করে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। আয়োজকদের দাবি, ওসান-প্লাস্টিক দিয়ে গড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘প্লাস্টিক মনস্টার’ এটি।
সৈকতে গিয়ে দেখা যায়—বালিয়াড়ির ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা ভাস্কর্যটির কেন্দ্রে যেন দু’ভাগ হওয়া পৃথিবী, যার বুক চিরে বেরিয়ে আসছে প্লাস্টিকের স্তূপ। মানবজাতির অবহেলায় ফেলে দেওয়া বর্জ্যই যে আজ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দানবীয় আঘাত হানছে—ভাস্কর্যের প্রতিটি অংশ সেই বার্তা স্পষ্ট করে।

উদ্বোধনের পরই ভাস্কর্যটি ঘিরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। কেউ কেউ প্রথম দেখায় আতঙ্কিত হলেও কাছে গিয়ে বোঝেন—এ দানবের ভয় নয়, ভয় পাওয়া উচিত মানুষের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের ভয়ংকর পরিণতি।
বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবকরা জানায়, পুরো মৌসুমজুড়ে প্লাস্টিকবিরোধী সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, পথনাটক ও সংগীত পরিবেশন চলবে। প্লাস্টিকের ক্ষতি সম্পর্কে জানাতে পর্যটকদের অংশগ্রহণেও তারা আশাবাদী।
পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বড় পরিমাণে প্লাস্টিক সংগ্রহ। বিদ্যানন্দের তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে কক্সবাজার–ইনানী–টেকনাফ সৈকত থেকে ৮০ টন সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তারই একটি অংশ দিয়ে নির্মিত হয়েছে এই দানব ভাস্কর্য। আর সংগঠনটি সারাদেশে মোট ৫০০ টনের বেশি প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছে।
২০২২ সালে প্রথম প্লাস্টিক দানব প্রদর্শনের পর এবার আরও বড় ও ভয়ংকর রূপে ফিরে এসেছে ভাস্কর্যটি। আয়োজকদের মতে, এতে বোঝা যায়—প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা কমেনি, বরং আরও বেড়েছে।
উদ্বোধনী পর্বে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, “সমুদ্র সৈকতকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষায় বিদ্যানন্দের এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। এই ভাস্কর্য পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
পর্যটক মোরশেদ বলেন, “মানুষ সচেতন না হলে এই অদৃশ্য দানবই একদিন পৃথিবীকে গ্রাস করবে।”
















