দক্ষিণ কোরিয়ার প্রশাসন এমন একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করছে, যা স্টকিংয়ের শিকার ব্যক্তিদের তাদের হেনস্থাকারীর সঠিক অবস্থান রিয়েল-টাইমে দেখাবে, যদি হেনস্থাকারী কাছাকাছি থাকে। দেশের ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় বুধবার এই উদ্যোগের ঘোষণা দেয়। এটি দেশের ইলেকট্রনিক নজরদারি আইনের সংশোধিত সংস্করণের অংশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টকিং সম্পর্কিত বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের ঘটনা সংবাদ শিরোনামে এসেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমান আইনের আওতায়, শিকার ব্যক্তিরা শুধু এসএমএস সতর্কবার্তা পান যখন হেনস্থাকারী কাছাকাছি আসে, তবে এর মাধ্যমে হেনস্থাকারীর সঠিক অবস্থান জানা যায় না।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি শিকারদের জন্য বিপজ্জনক, কারণ তারা হেনস্থাকারীর দিকটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারে না। তবে সংশোধিত আইনের মাধ্যমে শিকাররা তাদের স্মার্টফোনে হেনস্থাকারীর অবস্থান মানচিত্রে দেখতে পারবে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারবে।
হেনস্থাকারীদের অবস্থান নিরীক্ষণের জন্য প্রশাসন তাদের পায়ে পরিধেয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করছে। এছাড়াও ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয় এই ট্র্যাকিং সিস্টেমকে জাতীয় জরুরি হটলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে প্রয়োজনে পুলিশ দ্রুত পাঠিয়ে শিকারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই সংযুক্তি আগামী বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টকিং কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি মহিলাদের প্রতি সহিংসতার বিস্তৃত চিত্রের অংশ। অনেক মহিলাকে গুপ্ত ক্যামেরায় ফিল্ম করা হয়েছে, কিংবা নারীবাদী হিসেবে হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
২০২২ সালে এক তরুণী মহিলার হত্যার পর জনসাধারণে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল। তাঁর পুরনো সহকর্মী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে স্টক করছিলেন, পুলিশে অভিযোগ সত্ত্বেও গ্রেফতার হননি বা ন্যায্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা দেওয়া হয়নি।
২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়া একটি বিরোধী-স্টকিং আইন প্রবর্তন করে, যা অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল এবং ৩০ মিলিয়ন কোরিয়ান ওন পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করেছে। ২০২৩ সালে সংসদ আইনের সংশোধন করে, স্টকারদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার বিধিনিষেধ কমানো হয়।
আইন প্রয়োগের পর থেকে রিপোর্টের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে স্টকিংয়ের অভিযোগ ছিল ৭,৬০০টি, যা গত বছর ১৩,০০০-এর বেশি হয়ে যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগ শিকারদের জন্য একটি নতুন আশার আলো জ্বালাবে, যেখানে তারা নিরাপত্তার আশ্বাস পাবে এবং নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারবে।
















